জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত সপ্তাহে তাইওয়ানের ওপর সম্ভাব্য চীনা হামলার প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন। এর আগে জাপানি নেতারা এমন পরিস্থিতি আলোচনা করলেও তাইওয়ানের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন। যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখে। তাকাইচির মন্তব্যের পর জাপানে নিযুক্ত এক চীনা কূটনীতিক হুমকিমূলক পোস্ট দেন। বেইজিংও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার পার্লামেন্টে এক বিরোধী আইনপ্রণেতা ‘বেঁচে থাকার জন্য হুমকির মতো পরিস্থিতি’ এই আইনি পরিভাষা নিয়ে প্রশ্ন করলে তাকাইচি উদাহরণ হিসেবে বলেন, যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তাইওয়ানকে পুরোপুরি চীনের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তিনি পরে আরও যোগ করেন, তাইওয়ান ঘিরে সম্ভাব্য চীনা অবরোধ ভাঙতে পাঠানো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলা হলে জাপান নিজেদের ও মিত্রের নিরাপত্তায় সামরিক হস্তক্ষেপে বাধ্য হতে পারে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটি দখলে শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় না।তাইওয়ান জাপানি আঞ্চলিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে এবং দ্বীপটির চারপাশের জলসীমা জাপানের বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। জাপানেই রয়েছে বিদেশে অবস্থানরত সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
‘বেঁচে থাকার জন্য হুমকির মতো পরিস্থিতি’ এই সংজ্ঞা ২০১৫ সালের বিতর্কিত আইনে বিস্তৃতভাবে নির্ধারণ করা হয়। শান্তিবাদী দেশের সামরিক ভূমিকা বাড়ানো এই আইন জাপানের যুদ্ধ–পরবর্তী নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। তখন দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
কঠোর জাতীয়তাবাদী তাকাইচি মাত্র এক মাসেরও কম সময় আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। নভেম্বরের শুরুতে সিউলে এক আঞ্চলিক সম্মেলনে তাইওয়ানের এক প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা নিয়েও বেইজিং ক্ষুব্ধ। এই উত্তেজনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা স্থিতিশীল থাকা এশিয়ার দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেনাবাহিনীকে ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নেয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি বাস্তব আক্রমণের সময়সীমা নয়; বরং সেনাবাহিনীকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যেই এমন নির্দেশ।
শনিবার ওসাকার চীনা কনসাল জেনারেল এক সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে এক্স–এ মন্তব্য করেছেন, ‘যে নোংরা মাথা ঢোকানোর চেষ্টা করে, তা কেটে ফেলতেই হবে।’ টোকিও মন্তব্যটিকে ‘চরম অনুপযুক্ত’ বলে আখ্যায়িত করে। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
বেইজিং জানায়, তাকাইচির বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে ১৯৭২ সালের চুক্তির চেতনা লঙ্ঘন করেছে। ওই চুক্তিতে জাপান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ান সম্পর্কে বেইজিংয়ের অবস্থান ‘বোঝে ও সম্মান করে’ বলে উল্লেখ করে।
চীনের প্রতিবাদের জবাবে মঙ্গলবার জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা ১৯৭২ সালের চুক্তির প্রতি টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তাইওয়ান-সংক্রান্ত ইস্যু শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হওয়াই কাম্য।
সোমবার তাকাইচি বলেন, তার মন্তব্য ‘কাল্পনিক’ ছিল এবং ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে এমন মন্তব্য থেকে তিনি বিরত থাকবেন।