প্রশ্ন
আমার বয়স ৩২ বছর। পেশায় ব্যবসায়ী। আমি সদ্য বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী চাকরিজীবী। আমাদের বিয়েটি হয়েছে আমার বড় ভাবীর চেনাজানার মধ্যে। আমার বড়ভাই বিদেশে থাকায় ভাবী তার ৭ বছরের সন্তান নিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকেন। কিন্তু বিয়ের পর এক মাস যেতে না যেতে আমার বড় ভাবী নানাভাবে আমার বউয়ের চাকরি করাকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি করছেন। রোজ কোনও না কোনও অশান্তি লেগেই আছে। এখন বউ নিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার বাস্তবতা নেই। আবার রোজকার এই টানাপোড়েনে কারোর ভালো থাকার উপায় নেই। এখন এমন কী করতে পারি যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে?
উত্তর
সমস্যার গোড়া খোঁজার চেষ্টা করুন
বিয়ের আগে যিনি এই বিয়েতে মধ্যস্থতা করেছেন, তিনিই বিয়ের পর কেন জটিলতা তৈরি করছেন? এর পেছনের কারণটা খুঁজে বের করা সবচেয়ে জরুরি। আপনার ভাবীর সাথে সম্পূর্ণ একা এবং শান্ত পরিবেশে কথা বলুন। তাকে সরাসরি অভিযোগ না করে, তার পরামর্শ চান। নিশ্চয় উনারও কোনও সমস্যা হচ্ছে। সেটা বুঝতে এবং সমাধান করতে আপনি যে আলাপে আগ্রহী সেটা আপনার আচরণে যেন প্রকাশ পায়। তাকে বলুন, আপনার পছন্দেই আমি বিয়ে করেছি। কিন্তু আমি দেখছি, বিয়ের পর থেকে আপনি কোনও কারণে বেশ মানসিক চাপে আছেন বা কিছু একটা নিয়ে অখুশি। আপনার কোনও কষ্ট হচ্ছে? আমাকে খোলাখুলি বললে হয়তো আমি সমাধান করতে পারতাম।
শুধু নিজে না বলে, ভাবীকেও বলতে দিন
তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাহলে দেখবেন অনেকটা বুঝতে পারছেন, তার খারাপ লাগার জায়গাগুলো কী। তিনি কি ভাবছেন নতুন বউ আসায় তার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে? নাকি তার সন্তানের দেখাশোনায় কোনও অসুবিধা হবে বলে মনে করছেন? মূল কারণটি না জানলে সমাধান সম্ভব নয়।
আপনার স্ত্রীর মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন
আপনার স্ত্রী এই বাড়িতে নতুন এবং এসেই তিনি একটি প্রতিকূল পরিবেশ পাচ্ছেন। তাকে ভরসা দিন। আপনার স্ত্রীকে সবার আগে বোঝান যে, আপনি তার পাশে আছেন এবং তার চাকরি করাকে সমর্থন করেন। তাকে একা হয়ে যেতে দেবেন না। তাকেও বোঝান যে, যেহেতু আপনারা একসাথেই থাকছেন, তাই ভাবীর প্রতি যেন তিনি সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখেন।
সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করুন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
অনেক সময় চাকরি করা নিয়ে সমস্যা হয় না, সমস্যা হয় চাকরি করার ফলে সংসারের কাজে কে কতটুকু সময় দেবে—তা নিয়ে।
ভুলে যাবেন না, আপনার ভাই বিদেশে থাকেন। ৭ বছরের সন্তান নিয়ে তিনি হয়তো একাই সংসার সামলাচ্ছেন। নতুন একজন আসায় তিনি হয়তো নিজের অবস্থান বা কর্তৃত্ব নিয়ে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাকে গুরুত্ব দিন, সংসারের গুরুত্বপূর্ণ ছোটখাটো বিষয়ে তার পরামর্শ নিন। তাকে বোঝান যে, নতুন বউ আসাতে তার গুরুত্ব কমে যায়নি, বরং পরিবারটি আরও বড় হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল, তবুও আপনার বড় ভাইয়ের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে।
প্রশ্ন
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পরে, ভাই সংসার নিয়ে আলাদা হয়ে গেলে গত চারবছর আমি আর আমার বাবার সংসার। প্রথম বর্ষে আমি খুব ভালো ফলাফল করেছি। দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতে আমার বাবা মারা যান এবং আমাকে আমার ভাই-ভাবীর বাড়িতে উঠতে হয়। কিন্তু ভাবী কোনোভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। ভাই আমাকে হোস্টেলে থাকতে দিবে না। আমি তাকে ভাবীর নামে কিছু বলি না, ফলে আমার সমস্যা কী হচ্ছে তিনি বুঝতে পারেন না। আমার কী করা উচিত?
উত্তর
আপনাকে আপনার ভাইয়ের সাথে কথা বলতেই হবে। তিনি আপনার একমাত্র অভিভাবক। অভিযোগ নয়, নিজের সমস্যার জায়গাগুলো শেয়ার করুন। ভাবীর নেতিবাচক কিছু শেয়ার না করে আপনি আপনার সমস্যা হচ্ছে সেটা তুলে ধরুন। ভাই আপনার জন্য যথেষ্ট করেন কিন্তু পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে এভাবে জানান। তাকে বলুন, প্রথম বর্ষে আপনার ফল কতো ভালো ছিল, কিন্তু বর্তমান মানসিক পরিস্থিতিতে আপনার পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। এসব বলে সমাধানটা তার কাছেই চান। হোস্টেলে বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে পড়ালেখার সুবিধা হবে মনে করছেন সেটাও জানান।
ভাবীর সাথে সম্পর্ক সহজ করার চেষ্টা করুন
চলে যাচ্ছেন বলে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না। যতদিন তার সাথে থাকতে হচ্ছে, চেষ্টা করুন মুখোমুখি ঝামেলা যেন না হয়।
পড়াশোনার বাইরে যেটুকু সময় পান, নিজে থেকেই সংসারের ছোটখাটো কাজে সাহায্য করুন। যে বিষয়ে কথা বললে অশান্তি হতে পারে, সে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন। আপনি যে সম্পর্ক অবনতি হওয়ার কারণে যাচ্ছেন না, পড়ালেখার প্রয়োজনে যাচ্ছেন, সেটা তাকেও বলতে থাকুন। দেখবেন তিনি খুশি হবেন। যাওয়ার জন্য কী কী নিতে হবে তার কাছে পরামর্শ নিন। আপনি সপ্তাহে একদিন করে তাদের সঙ্গে দেখা করে যাবেন, নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন সেসব বলার পাশাপাশি, ভাই-ভাবীর সম্পর্ক বিষয়ে আপনি সংবেদনশীল সেটি তাকে জানান।
নিজের জন্য বিকল্প খুঁজুন
কীভাবে আপনি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন সেটা নিয়ে ভাবা শুরু করুন। যদি সম্ভব হয়, দু’একটি টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজ খোঁজার চেষ্টা করুন। নিজের খরচের টাকা নিজে জোগাড় করতে পারলে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং ভাইয়ের ওপর নির্ভরতা কমবে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ নিন, ভালো ফলাফলের জন্য বা আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য কোনও স্কলারশিপ বা বৃত্তির ব্যবস্থা আছে কি না।