তানজানিয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ তুলেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল চাদেমা। দলটির মুখপাত্র জন কিতোকা শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্যানুসারে বুধবার থেকে প্রায় ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের পর সহিংসতা দমনে ১০ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়। অন্তত তিনটি শহরে সংঘটিত বিক্ষোভে প্রাণহানির ওই তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তানজানিয়ায় বুধবার ভোটগ্রহণের পর কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থার তরফ থেকে এটিই প্রথম প্রকাশিত প্রাণহানির সংখ্যা।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ থাবিত কম্বো। তিনি বলেন, বিরোধী দল মৃতের সংখ্যা অতিরঞ্জিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
অবশ্য সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
সরকারি পক্ষের দাবি, সহিংসতার অনেক ছোট পরিসরে হচ্ছে এবং যতটুকু হচ্ছে, তা পেছনে রয়েছে অপরাধী গোষ্ঠীরা।
এদিকে, এক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, দার এস সালামে তার এক আত্মীয়কে বিক্ষোভকারী মনে করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য পুলিশ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
বুধবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়া এবং ব্যাপক দমননীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদকারীরা সেদিন থেকেই রাস্তায় নেমেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ দমনে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ব্যবহার করেছে পুলিশ।
এরমধ্যে, বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় একাধিক সরকারি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এরপর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং বুধবার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দার এস সালামসহ বড় শহরগুলোয় সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, এবং বৈধ কারণ ছাড়া চলাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আংশিক নির্বাচনি ফলাফলে প্রেসিডেন্ট হাসান দেশজুড়ে ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গুতেরেসের পক্ষ থেকে তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি। তিনি প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
কিতোকা বলেন, নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। নির্বাচনি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তার দল আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
তানজানিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ব্রিটেন, কানাডা ও নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা কর্তৃপক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানান।