বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র উজ্জীবিত হবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিশ্চয়ই এই বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবো এবং গণতন্ত্রকে আরও উজ্জীবিত করবো। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিকীকরণ করবো।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে এক গ্রন্থ প্রকাশনার আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে বিএনপির উপ-প্রকাশনা কমিটির প্রকাশনায় ‘মহাকালের মহানায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ৬৪০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম ও আবদুল হাই শিকদার। হামিদুল ইসলামে প্রচ্ছদে গ্রন্থটি মূল্য রাখা হয়েছে ২ হাজার টাকা।
নির্বাচন পেছানোর জন্য কোনও কোনও দল চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘কোনও কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচন সঠিক সময় না হয় সেই চেষ্টা করছে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের যে অন্তর্বর্তী সরকার আমরা তাকে সহযোগিতা করে একটা জায়গায় আসার চেষ্টা করছি– একটা নির্বাচন যেন করা যায়। আমি কোনও দলকে দোষারোপ করতে চাই…কোনও ব্যক্তিগত দোষারোপ করতে চাই না। কিন্তু হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করি, কোনও কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচন যেন পিছিয়ে যায়, নির্বাচন যেন সঠিক সময় না হয় তার চেষ্টা করছে। এটা ঠিক হচ্ছে না।’
‘এখন দ্রুত একটা রাজনৈতিক সরকার দরকার’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারণ দেশের অর্থনীতি, দেশের রাজনীতি শিক্ষা সবকিছু নির্ভর করছে আগামীতে একটি নির্বাচিত সরকার সেই ব্যবস্থাকে সামনে নিয়ে আসবে। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, জাতীয় সংস্কার কমিশন তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যে অন্তত কিছু সংস্কারের কাজ শেষ করতে পেরেছে। এটার প্রয়োজন ছিল পরিবর্তনের পরে।’
‘সংস্কার সব বিএনপির হাত ধরেই’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান ২২ সালে যে ৩১ দফা দিয়েছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় কিন্তু আমরা এই সংস্কারগুলো দিয়েছি। ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন-২০৩০ আর আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন ১৯ দফা কর্মসূচি। সব কিছু মিলিয়ে এসব সংস্কার।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির জন্ম সংস্কারের মধ্যে, সংস্কার দিয়েই একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদূরীয় শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট জিয়া নিয়ে এসেছিলেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফ্রিডম অব প্রেস প্রেসিডেন্ট জিয়া দিয়েছিলেন। জনগণের মৌলিক স্বাধীনতার অধিকারগুলোর স্বাধীনতা প্রেসিডেন্ট জিয়া দিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম অব গভমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফম গভমেন্টে নিয়ে এসেছিলেন। মেয়েদের লেখাপড়া দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনা খরচ লেখাপড়ার ব্যবস্থা খালেদা জিয়া করেছিলেন। মেয়েদেরকে চাকরি দেওয়া, মহিলা অধিদপতর করা– সব বিএনপি এবং ম্যাডামের কাছে দেওয়া। অথচ এমনভাবে কথা বলা হয়, বিএনপি একটা ভিলেন– কিছু কিছু লোক বলার চেষ্টা করেন। আমি বিস্মিত হই। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, বাংলাদেশে যা কিছু ভালো হয়েছে সব বিএনপির হাত দিয়ে হয়েছে, জনগণ হাত হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার হাত দিয়ে হয়েছে।’
‘জিয়ার নাম মুছে ফেলতে পারেনি’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম মুছে পড়ার চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগ। জিয়ার মাজার পর্যন্ত তুলে নিয়ে যাবে, তার নাম-গন্ধ থাকবে না... তাই করেছিল না। পারে নাই। কারণ সত্যিকার অর্থেই জিয়াউর রহমান ক্ষণজন্মা, আল্লাহ যাকে পাঠিয়েছেন মানুষের কল্যাণের জন্য তাকে কি এত সহজেই ছুড়ে ফেলা যায়? যায় না।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের নেতা যিনি আজ নতুন করে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য কাজ করছেন। তিনি সেই একই ধারার (জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া) নেতা। আমার এখনও মনে আছে, তিনি চীনে একবার গিয়েছিলাম ম্যাডামের সঙ্গে, আমরাও ছিলাম। ওই সময়ে প্রচন্ড শীত ছিল, সে জন্য গ্রেট হলের ভেতরে ম্যাডামকে গার্ড অব অনার দেওয়ার অনুষ্ঠানটি হয়। তিনি যখন চীনের প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন, যখন তারেক রহমানের সামনে এসে বললেন, হি ইজ মাই সান (আমার ছেলে)। তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী তার (তারেক রহমানের) হাতটা শক্ত করে ধরে ঝাঁকিয়ে বললেন, কেরি অব দ্য ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড ফাদার অ্যান্ড মাদার। আজ তারেক রহমান সেই পতাকা তুলে ধরেছেন যে পতাকা স্বাধীনতার পতাকা, যে পতাকা এই দেশের মানুষের অধিকারের পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকা, উন্নয়নের পতাকা। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিশ্চয়ই এই বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবো এবং গণতন্ত্রকে আরও উজ্জীবিত করবো। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিকীকরণ করবো।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও প্রকাশনা উপকমিটির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশররফ হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য্ অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই শিকদার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, কলামিস্ট সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।