মুখে দাড়ি দেখে কটাক্ষ ও অপদস্থ করার অভিযোগ এনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গাজীপুর হাইওয়ে হাঁসাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু নাঈম সিদ্দিকী।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আইজিপি, প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দফতরে জমা দেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি প্রভাবশালী একটি ব্যক্তির গাড়ির মালিককে ফোন করেন। এ কারণে ডিআইজি (অপারেশন) রেজাউল করিম তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে কটাক্ষ ও অপদস্থ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত
অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সিরাজদিখান থানার মর্ডান সিটির সামনে একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও একজন আহত হন। পদ্মাসেতু টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে গাড়ির তথ্য শনাক্ত করে গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওসি আবু নাঈম। ওই গাড়ির মালিক ছিলেন ‘টিকে গ্রুপের’ এমডি হাসিব।
ওসি আবু নাঈম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ফোন করার পরপরই ডিআইজির পিএ পরিচয়ে একটি ল্যান্ডফোন থেকে তাকে হেডকোয়ার্টারে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তিনি ডিআইজি রেজাউল করিমের মুখোমুখি হন। সে দিন ডিআইজি হাসিবের পক্ষ নিয়ে তাকে কটাক্ষ ও অপদস্থ করেন। দাড়ি রাখার জন্য মন্তব্য করার পাশাপাশি চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকিও দেন। এক পর্যায়ে হাসিবের সামনেই তাকে কল করার অপরাধে বরখাস্ত ও নানা ধরনের হুমকি দেন।
‘পুলিশের পোশাককে অপমান করা হয়েছে’
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে ওসি আবু নাঈম বলেন, ‘আমি একটি দুর্ঘটনার তদন্ত করছিলাম। সন্দেহভাজন গাড়ির মালিককে ফোন করায় আমাকে হেডকোয়ার্টারে ডেকে কটাক্ষ ও অপমান করা হয়। আমার ডিপার্টমেন্টের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা একজন বেসরকারি ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে আমাকে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। এটি পুলিশের পোশাকেরও অবমাননা।’
তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি গাজীপুর রিজিওনের হাইওয়ে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন এবং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৭১২) করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে ডিআইজি রেজাউল করিমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি।
পুলিশের বক্তব্য
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার ড. আকম আক্তারুজ্জামান বসুনিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওসি আমাকে বিষয়টি জানিয়ে হেডকোয়ার্টারে গিয়েছিলেন। তিনি আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র দফতরসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযোগ দিয়েছেন। যেহেতু অভিযোগ এসেছে সেটি তদন্তের বিষয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া ও পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে বিস্তারিত আমার জানা নেই।’