বিজ্ঞানের বিভিন্ন সাফল্যের মধ্যে অন্যতম টেলিভিশন উদ্ভাবন। ১৯২৫ সালের ২ অক্টোবর স্কটিশ উদ্ভাবক জন লোগি বেয়ার্ড প্রথমবারের মতো মানুষের মুখের একটি স্পষ্ট চলমান ছবি প্রেরণ করতে সক্ষম হন। টেলিভিশনের সেই প্রথম অভিনেতা ছিলেন তরুণ অফিস সহকারী উইলিয়াম টেইন্টন।
টেলিভিশন আবিষ্কারের চেষ্টায় বিজ্ঞানীরা ১৮৫০ সাল থেকে গবেষণা শুরু করলেও পুরোনো সাইকেলের বাতি, কাঠের টুকরো আর বিস্কুটের কৌটা দিয়ে তা বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন বেয়ার্ড। বড় সাফল্যের আগে বেয়ার্ড ছিলেন এক ধারাবাহিক উদ্ভাবক—কখনো সফল, কখনো ব্যর্থ। স্বাস্থ্যজনিত কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেতে না পারলেও উদ্ভাবনের নেশায় বিভোর ছিলেন। পরিবর্তে তিনি একটি বিদ্যুৎ কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন এবং নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে থাকেন।
তবে দুর্ঘটনায় বিদ্যুতের আঘাতে পুড়ে যাওয়ার পর বেয়ার্ড লন্ডনের সোহোতে চলে আসেন এবং ২২ ফ্রিথ স্ট্রিটে একটি নতুন ল্যাব গড়ে তোলেন। তীব্র আলো-তাপে মানুষ সহ্য করতে না পারায় তিনি পরীক্ষায় ‘স্টুকি বিল’ নামের একটি ভেন্ট্রিলোকুইস্ট পুতুল ব্যবহার করতেন। কিন্তু অবশেষে ১৯২৫ সালের ২ অক্টোবর তিনি সাহস করে একজন বাস্তব মানুষকে সামনে বসালেন।
সেই মানুষটি ছিলেন মাত্র ২০ বছরের তরুণ কর্মচারী উইলিয়াম টেইন্টন। টেইন্টন প্রথমে ভয় পেয়ে ফিরে যেতে চাইলেও বেয়ার্ড তাকে আশ্বস্ত করেন। প্রচণ্ড তাপের মধ্যে টেইন্টনকে নানারকম ভঙ্গি ও মুখভাষা করতে বলা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেয়ার্ড দৌড়ে এসে উচ্ছ্বাসভরে ঘোষণা করেন—'উইলিয়াম, আমি তোমাকে দেখেছি! আমি টেলিভিশন পেলাম, প্রথম সত্যিকারের টেলিভিশন ছবি।
প্রথম প্রদর্শনের জন্য বেয়ার্ড টেইন্টনকে দিয়েছিলেন আধা ক্রাউন। টেলিভিশনের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম পারিশ্রমিক। পরে বেয়ার্ড ও টেইন্টন নিজেদের জায়গা বদলে নেন। তখন টেইন্টন দেখতে পান ২ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চির একটি ছোট্ট ছবিতে বেয়ার্ডের মুখ ভেসে উঠেছে। যদিও ছবিটি ছিল অস্পষ্ট, তবু সেটি নড়ছিল—এবং এটিই ছিল মূল অর্জন, বিশ্বের প্রথম কার্যকর টেলিভিশন চিত্র।
বিবিসি
কেএম/এমএসএম