চীনের থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত শেনচৌ-২০ এর নভোচারী দল গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, স্টেশন পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়েছেন। তাদের গবেষণা ও কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সি।
সম্প্রতি ছেন তোং, ছেন চোংরুই ও ওয়াং চিয়ে—এ তিন চীনা নভোচারী তাদের স্পেস স্টেশনের বাইরে রেখে যে যন্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালিয়েছিলেন, সেগুলো তারা স্টেশনে ফিরিয়ে এনেছেন এবং তৃতীয় দফা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কাজও শেষ করেছেন।
এই পরীক্ষা মহাকাশের চরম পরিবেশে বিভিন্ন উপকরণের ক্ষয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও কার্যকারিতা ব্যর্থতা বিশ্লেষণে সহায়তা করবে। এর ফলাফল ব্যবহার হবে এমন সোলার প্যানেল তৈরিতে যা আরও ভালোভাবে ভাঁজ করা যাবে। আবার চাঁদে ঘাঁটি নির্মাণের উপাদান, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশের তৈলাক্তকরণ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রের বিকিরণ-প্রতিরোধী উপকরণ উন্নয়নেও কাজে আসবে তাদের সাম্প্রতিক গবেষণা।
মাইক্রোগ্রাভিটিতে স্নায়ু-নিয়ন্ত্রিত গতিবিধির পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন চীনা নভোচারীরা।
রাসায়নিক দহন সংক্রান্ত পরীক্ষাতেও অগ্রগতি হয়েছে। একটি সিল করা দহন চেম্বারে গ্যাস, তরল ও কঠিন জ্বালানির আলাদা আলাদা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্টেশনের ভেতরে বাতাস, পৃষ্ঠ ও পানির নমুনা নিয়ে জীবাণুর উপস্থিতি ও সেগুলোর বিস্তার পরীক্ষা করেছেন নভোচারীরা, যা জীবাণু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
এ ছাড়া কার্গো প্যাকেজ পুনর্বিন্যাস, এক্সট্রাভেহিকুলার স্পেসস্যুট, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সাধারণ সরবরাহ সামগ্রীর পরিদর্শন করেছেন তারা।
শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করেছেন এবং পেশি শিথিল ও ক্ষয় রোধে স্নায়ু-পেশি উদ্দীপক যন্ত্র ব্যবহার করেছেন।
সূত্র: সিএমজি