টঙ্গীতে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ারের সদস্যসহ চারজন আশঙ্কাজনক

টঙ্গীতে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ারের সদস্যসহ চারজন আশঙ্কাজনক

গাজীপুর টঙ্গী সাহারা মার্কেট সেমিপাকা একটি টিনসেট কেমিক্যালের গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্যসহ একই ঘটনায় অপর এক দোকান কর্মচারীও দগ্ধ হয়। কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাপ নিয়ন্ত্রণের প্রটেক্টর পোশাক পরেই নির্বাপনের কাজ করছিল কিন্তু বিস্ফোরণের কারণে আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে ফায়ার কর্মীদের প্রটেক্টর পোশাক পুড়ে গিয়ে তারা দগ্ধ হয়।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলছে, বিষয়টি আসলে কিভাবে হয়েছে ঘটনা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।  

হাসপাতাল থেকে জানা যায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অপর এক দোকান কর্মচারী আলা-আমিন নামে এক ব্যক্তি মারাত্মক দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।  

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তর থেকে মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, বিকেলে গাজীপুর টঙ্গী সাহারা মার্কেট সেমিপাকা একটি টিনসেট কেমিক্যালের গোডাউনের অগ্নিকাণ্ডের সংবাদে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিট আগুন নির্বাপনের কাজ করার সময় তিনজন ফায়ার ফাইটার ও একজন কর্মকর্তা দগ্ধ হয়। তারা হলেন, ফাইটার মো. শামীম, অফিসার জান্নাতুল নাঈম এ ছাড়া অপর দুজন ফায়ার ফাইটার মো. নুরুল হুদা ও জয় হাসান।

বর্তমানে তারা রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় অবস্থিত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। অপরদিকে চিকিৎসকরা বলছে, ফায়ার সার্ভিসের তিনজন ও অপর আরেকজন মোট ৪জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক।  

তালহা বিন জসিম আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুনের তাপের প্রতিরোধের পোশাক পড়েই টঙ্গীতে লাগা কেমিক্যালের গোডাউনে আগুন নির্বাপনের কাজ করছিল। এই সময় বিস্ফোরণ হলে আগুনের তীব্রতার কারণে সেই পোশাক পুড়ে তারা দগ্ধ হয়।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বাংলানিউজকে বলেন, টঙ্গীতে কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন নির্বাপনের সময় আমাদের তিন ফায়ার ফাইটার ও একজন অফিসার দগ্ধ হয়েছেন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন বার্ন ইনস্টিটিউটে। সব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ফায়ার কর্মীরা কাজ করে থাকে, আজ তেমনি তারা কাজ করছিল। তবে বিস্তারিত ঘটনা জানার জন্য কাজ করা হচ্ছে। পরে ফায়ারের মহাপরিচালক বার্ন ইনস্টিটিউটে দগ্ধ ফায়ার সদস্যদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সেখানে অনেক সময় অবস্থান করেন।

এদিকে টঙ্গীর ওই কেমিক্যাল গোডাউনে আগুনের সময় পাশের হার্ডওয়ার দোকানের কর্মচারী আলা-আমিন তাদের গোডাউন থেকে মালামাল সরানোর সময় জ্বলতে থাকা কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন থেকে বিস্ফোরণে সময় প্রচন্ড বেগে ছুটে আসা আগুনের ফুলকিতে তার শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছে।

দগ্ধ আল আমিনের সহকর্মী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলায়। বাবার নাম মৃত রতন হাওলাদার। থাকেন টঙ্গী রেলওয়ে কলোনিতে। সাহারা সুপার মার্কেটের পাশের লাক্সমি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করেন তারা।

আনোয়ার জানান, ৩টার দিকে মার্কেটটিতে আগুন লাগে। সেখানে তাদের একটি গোডাউন রয়েছে। আগুনের খবর শুনে তারা সেখানে গিয়েছিলেন গোডাউন থেকে মালামাল সরাতে। তখনই বিস্ফোরণে আল আমিন দগ্ধ হন।

ঢামেক হাসপাতালে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, আলামিনের অবস্থা খুবই খারাপ, তার শরীরে প্রায় সব জায়গায় আগুনে পুড়ে গেছে।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গাজীপুর টঙ্গী বিসিক এলাকার একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ চার ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার অবস্থাই গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই ঘটনায় আলআমিন নামে অপর আরেকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান সেখানকার চিকিৎসকরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফজলে রাব্বি জানান, টঙ্গীর অগ্নিকাণ্ডের দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের চারজনের মধ্যে জয় হাসান নামে একজনের শরীরের পাঁচ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া নুরুল হুদা ও শামীম আহমেদের শ্বাসনালিসহ শরীরের প্রায় শতভাগ অংশ পুড়ে গেছে। আর ইন্সপেক্টর খন্দকার জান্নাতুল নাইমের ৪২ শতাংশ পুড়ে গেছে। এই তিনজনের অবস্থা ক্রিটিকাল।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তর থেকে জানান, টঙ্গীর সেই কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিয়ন্ত্রণ এসেছে।

আরও পড়ুন>>টঙ্গীর কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে, আহত ৪

এজেডএস/এএটি

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin