গাজীপুরের টঙ্গীতে রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের কর্মী শামিম আহমেদ (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় এখনও ফায়ার সার্ভিসের তিন জনসহ চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, শামিম আহমেদের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তিনি আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।
শামিম আহমেদ টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার পদে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তিন সন্তানের জনক শামিম ২০০৪ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। আজ বাদ মাগরিব ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এর আগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী এলাকার সাহারা সুপার মার্কেটসংলগ্ন একটি রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার জন সদস্যসহ মোট পাঁচ জন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ভর্তি করা হয়।
এখনও চিকিৎসাধীন দগ্ধরা হলেন—ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহিন আলম, ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খন্দকার জান্নাতুল নাঈম (৩৫), ফায়ার ফাইটার নূরুল হুদা (৪০) ও জয় হাসান (২৪) এবং স্থানীয় দোকানি আল-আমিন বাবু (২২)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খন্দকার জান্নাতুল নাঈম (৪২ শতাংশ দগ্ধ), ফায়ার ফাইটার মো. নূরুল হুদা (১০০ শতাংশ দগ্ধ), ফায়ার ফাইটার মো. জয় হাসান (৫ শতাংশ দগ্ধ)। এছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ কেমিক্যাল গুদামের কর্মচারী আল আমিন বাবু (৯৫ শতাংশ দগ্ধ) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, গুদামে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।