ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণত, এ ধরনের গোয়েন্দা মিশনের বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধানরা মুখে কুলুপ এঁটে রাখলেও, ট্রাম্প কোনও ঢাক ঢাক গুড় গুড় না করে প্রায় ঝেড়েই কেশেছেন।
হোয়াইট হাউজে বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রধানত দুটো কারণে সিআইএকে মিশন পরিচালনার অনুমতি দিয়েছি। প্রথম কারণ, ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের কারাগারের সব অপরাধীকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে ছেড়ে দিয়েছে। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, সেখান থেকে আমাদের দেশে প্রচুর মাদক পাচার হচ্ছে। প্রধানত জলপথে বেশিরভাগ পাচার হলেও আমরা এখন থেকে স্থলপথেও মাদক কারবারিদের প্রতিরোধ করব।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি।
দুটো দাবির একটির স্বপক্ষেও কখনও প্রমাণ পেশ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া, ভেনেজুয়েলা থেকে তুলনামূলক কম মাদকই যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়ে থাকে।
ট্রাম্পের অনুমোদনের কারণে পৃথক বা সামগ্রিক সামরিক পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতে পারবে সিআইএ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর উৎখাতের কোনও পরিকল্পনা তাদের অ্যাজেন্ডায় আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন জিজ্ঞাসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এ কেমন উদ্ভট প্রশ্ন!
ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা। বুধবার রাতে টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে মাদুরো বলেন, সরকার পরিবর্তনের নামে কোনও যুদ্ধ বাঁধানো যাবে না। তাদের এসব বক্তব্য আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়ার মতো ব্যর্থ যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, সিআইএ-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান নয়, আমরা শান্তি চাই।
এর আগে কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী মিরান্দা রাজ্যে সেনা মহড়ার নির্দেশ দেন মাদুরো। টেলিগ্রামে এক বার্তায় তিনি জানান, দেশ রক্ষায় সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক মিলিশিয়া প্রস্তুত থাকবে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল টেলিগ্রামে বলেন, আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধংদেহি বক্তব্য কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। সিআইএ’র ব্যবহার এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করে তারা সরাসরি আগ্রাসন ও ভয় দেখানোর নীতি প্রয়োগ করেছে।
অবশ্য, সিআইএ আদৌ অভিযান শুরু করেছে কি না বা প্রস্তুত হচ্ছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় গোপন কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তাদের।
এদিকে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে ‘মাদক’ বহনের অভিযোগ তুলে ‘সন্দেহভাজন’ জলযানে এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব নৌকা ভেনেজুয়েলা থেকে আসছিল বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
জাতিসংঘের নিযুক্ত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই হামলাগুলোকে 'বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বলাই বাহুল্য, কোনও ঘটনাতেই মাদক, নৌকার আরোহী, এগুলো কোথা থেকে আসছিল এবং গন্তব্য কোথায় ছিল- এসব ব্যাপারে একটিও তথ্য পেশ করেনি হোয়াইট হাউজ।
বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে আটটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এগুলো সামগ্রিক মাদক পাচার দমনের অংশ বলে দাবি করেছে তারা।
এক ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, তারা এখন ‘মাদকচক্রের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক সশস্ত্র সংঘাতে’ লিপ্ত।
এছাড়া, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকেই মাদক পাচারের নেতা বলে অভিযোগ করে আসছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এমনকি, মাদুরোর মাথার ওপর পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউজের দাবি, কার্টেল অব দ্য সানস নামে এক মাদকচক্রের সঙ্গে মাদুরোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যেখানে উচ্চপদস্থ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যুক্ত। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি