গাজা যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়নে যে অগ্রগতি, তার প্রশংসা করেছেন বিশ্বনেতারা।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছেন। তিনি বলেন, ‘এখন সবার কাছে মূল অগ্রাধিকার হতে হবে এমন একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো, যা সব জিম্মির অবিলম্বে মুক্তির পথ তৈরি করবে।’
গাজা যুদ্ধ বন্ধে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস থেকে একটি ২০ দফার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাবে উপত্যকাটিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, হামাসের কাছে থাকা সব জিম্মির মুক্তি, বিনিময়ে ইসরায়েলে থাকা ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে সরে যাওয়া ও হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিকল্পনায় বলা হয়, গাজা শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না, আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হবে। পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের দরজাও খোলা রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনায় আগেই সম্মতি জানান। হামাসকে সম্মতি জানানোর জন্য আগামীকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প হামাসকে তাঁর প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য ওই সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, প্রস্তাব মেনে না নিলে হামাসকে ‘নরকযন্ত্রণা’ ভোগ করতে হবে। ট্রাম্পের এ হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর হামাস আংশিকভাবে প্রস্তাব মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, হামাসের মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শান্তির সবচেয়ে কাছাকাছি আমাদের নিয়ে এসেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছেন, ক্যানবেরা গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানায়। তিনি হামাসকে ট্রাম্পের পরিকল্পনা গ্রহণ, অস্ত্রসমর্পণ ও বাকি জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, তিনি এবার ট্রাম্পের সঙ্গে একমত। কারণ, তিনি হত্যাকাণ্ডের সমাপ্তি চেয়েছেন।
পেত্রো আরও বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিলিস্তিনের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে তাঁর সেনা মোতায়েন করেন, তবে সেই সেনাদলের সঙ্গে কলম্বিয়ার সেনাও যোগ দেবে।
এদিকে হামাস যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা আংশিকভাবে মেনে নিতে রাজি হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে আরও আলোচনার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবে উল্লিখিত বন্দিবিনিময়ের প্রক্রিয়া মেনে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি আছে হামাস। তবে বন্দিবিনিময়ের জন্য মাঠপর্যায়ের শর্ত মানতে হবে।
বর্তমানে গাজায় ৪৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে জীবিত আছেন ২০ জন।
গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার–সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়ে হামাস আরও আলোচনা করতে চায়। সংগঠনটি বলেছে, বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।