অবশেষে মার্কিন সরকারে শাটডাউনের অবসান ঘটাতে বুধবার (১২ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘণ্টা দুই আগে প্রতিনিধি পরিষদ খাদ্য সহায়তা পুনরায় চালু, কয়েক লাখ সরকারি কর্মীর বেতন পরিশোধ এবং বিপর্যস্ত বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল করার পক্ষে ভোট দেয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ফলে, ৪৩ দিনের শাটডাউনে বেতন না পেয়ে কাজে অনীহা প্রকাশ করা সরকারি কর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকেই ফিরতে পারবেন। তবে পূর্ণমাত্রায় সরকারি সেবা ও কার্যক্রম ফের চালু হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের আগের ধাপে, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আধিপত্য থাকার পরও ২২২–২০৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ভর্তুকির প্রশ্নে সিনেটে মতবিরোধের জেরে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষোভ এখনও কমেনি, কেননা ভর্তুকি বৃদ্ধির প্রশ্নে এখনও কোনও স্পষ্ট সমাধান আসেনি। তবে ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান শিবির ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রোধ করেছে।
বিলটি আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি তহবিলের মেয়াদ বাড়াবে। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বছরে প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতি যুক্ত হবে, যার ফলে দেশের মোট ঋণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে।
এই ভোটের মাত্র আট দিন আগে ডেমোক্র্যাটরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে। অনেকের ধারণা ছিল, এতে স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি বৃদ্ধির দাবিতে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হবে। তবে এই চুক্তির ফলে বিষয়টি এখন ডিসেম্বর মাসে সিনেটে ভোটে উঠবে, কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
তবে, শাটডাউন নিয়ে দুদল পরস্পরের তীব্র বিষোদগার ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করলেও, আখেরে কেউই এই অচলাবস্থা থেকে স্পষ্ট কোনও বিজয় অর্জন করতে পারেনি। বুধবার রয়টার্স/ইপসোস প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ মার্কিন এই অচলাবস্থার জন্য রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষিপ্ত। অন্যদিকে, ৪৭ শতাংশ মনে করেন ডেমোক্র্যাটরা শাটডাউনের জন্য দায়ী।