বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে আগ্রহী ভুটান। সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক কান্ট্রি লেকচারে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি।
তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে ২০২৩ সালের ট্রানজিট চুক্তি অনুযায়ী একটি ট্রায়াল রান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বরে একটি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এটি ট্রানজিট অনুযায়ী সড়কপথে ভুটান যাবে। একইভাবে ভুটান থেকে আরেকটি ট্রায়াল রান পরিচালিত হবে— যেটি বাংলাদেশে ট্রানজিট হয়ে তৃতীয় কোনও দেশে যাবে। এই পরীক্ষামূলক কাজের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্রসবর্ডার ট্রানজিটে যেকোনও অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী অংশীদারত্বের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি পরিবেশ, জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা, পর্যটন ও শিক্ষার মতো অভিন্ন অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভুটান পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলাপ হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করলে বাংলাদেশ ও ভুটান উভয় দেশই পারস্পরিকভাবে লাভবান হতে পারে।
তিনি বলেন, এই বছরের শেষে ঢাকায় ভুটানের সঙ্গে ফরেন অফিস কনসাল্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
‘বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্ক: ভাগাভাগি সমৃদ্ধির জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নীতকরণ’ শীর্ষক কান্ট্রি লেকচারে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস। আর অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের পর্যটন খাতে সহযোগিতা চুক্তি করা হয়েছে ২০১৯ সালে। বাংলাদেশ থেকে ভুটানে পর্যটকদের উপস্থিতি বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেড় হাজার বাংলাদেশি পর্যটক ভুটান ভ্রমণ করেছে। ভুটান ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। একইসঙ্গে বিশ্বের শুধুমাত্র দুটি দেশের জন্য পর্যটনে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি কমিয়ে দিয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। ভুটানের পর্যটকরা প্রতিবছর ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করে থাকে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ভুটানের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। বর্তমানে ভুটানের বহু শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়াশোনা করছেন, বিশেষ করে মেডিক্যাল শিক্ষায়। বর্তমানে প্রায় ২৩০ জন ভুটানি মেডিক্যাল শিক্ষার্থী বাংলাদেশে অধ্যয়ন করছেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বাণিজ্য, সংযোগ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে উদীয়মান সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেন।