তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) জানিয়েছে, সোমবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৮ মিনিটের দিকে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পটি বালিকেসির প্রদেশের সিনদিরগি শহরে আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ৫.৯৯ কিলোমিটার (৩.৭২ মাইল)। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে শহরটিতে দ্বিতীয়বারের মতো ভূমিকম্প হলো। এতে দেশটির অর্থনৈতিক রাজধানী ইস্তাম্বুল ও পর্যটন শহর ইজমিরেও কম্পন অনুভূত হয়।
এএফএডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের হাবারতুর্ক সংবাদ চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটি ইস্তাম্বুলসহ আশপাশের বুরসা, মানিসা ও ইজমির প্রদেশেও অনুভূত হয়েছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি ও অন্যান্য গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিনদিরগিতে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া বলেছেন, ‘ভূমিকম্পের পর তিনটি ভবন ও একটি দোকান থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেগুলো ধসে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।
এর আগে গত আগস্ট মাসেও ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে সিনদিরগি অঞ্চল কেঁপে উঠেছিল, যাতে একজন নিহত ও ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছিল। এরপর থেকে বালিকেসির অঞ্চলে ছোট ছোট ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছিল।
তুরস্ক ভূমিকম্পপ্রবণ ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে।
২০২৩ সালে, ৭.৮ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে তুরস্কে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১টি প্রদেশে কয়েক লাখ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রতিবেশী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলেও আরও প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।