নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিলে আবার সময় চেয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ্ আল মামুনের আদালতে লিখিতভাবে সময় চান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক রঞ্জন মজুমদার। আদালত তাঁকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ধার্য তারিখে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেছিলেন আদালত। এদিকে আজ মামলার জামিনে থাকা ৯ আসামি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তবে পলাতক ছিলেন আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ও সালেহ রহমান ওরফে সীমান্ত।
এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, আদালত শুনানির সময় জানিয়েছেন, র্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা আগামী নভেম্বরে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। মামলার বাদী ও বিবাদী—উভয় পক্ষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইউম খান প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য আদালতে লিখিতভাবে সময় চেয়েছেন। জামিনে থাকা আসামিরা হাজিরা দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীর উদ্ধৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি হয়তো মৌখিকভাবে নভেম্বরে অভিযোগপত্র দেবেন বলে জানিয়েছেন।
ত্বকী হত্যায় অভিযুক্ত আজমেরী ওসমান প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আজমেরী ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। অনেকের মতে, তাঁরা দেশ ছেড়েছেন।
আজ আদালতে হাজিরা দেওয়া আসামিরা হলেন আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামসেদ চৌধুরী এবং রিফাত বিন ওসমান, মামুন মিয়া, তায়েব উদ্দিন জ্যাকি, ইউসুফ হোসেন, সাফায়েত হোসেন, আবদুল্লাহ্ আল মামুন, পিয়ার মাহমুদ পারভেজ, কাজল হাওলাদার।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের নভেম্বরে আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। তখন বলা হয়েছিল, অচিরেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। কিন্তু সাড়ে ১২ বছরেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ ধারাবাহিকভাবে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।