উৎসবের সময়ে একটু অনিয়ম হয়ই। ইচ্ছেমতো ঘুরাঘুরি, মনমতো খাওয়া, বাইরে যা তা খেয়ে ফেলার পরে মনে হয়- যাহ, এটাতো ঠিক হলো না। আমাদের চারপাশে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের রোগীর সংখ্যা কম না। ছোট থেকে বড় এখন অনেকেই ভুক্তভোগী। যেকোনও বিশেষ আয়োজনে ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত একটু অসাবধান হয়ে যান—ফল, মিষ্টি, ভাজাপোড়া, বেশি কার্বোহাইড্রেট ও অনিয়মিত রুটিনে ব্লাড সুগার বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে কিছু সাবধানতার কথা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
অতিরিক্ত মিষ্টি, রসগোল্লা, জিলাপি, পায়েস, সেমাই জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। ভাজা-পোড়া, তেল-চর্বি বেশি এমন খাবার কম খান। পরিমাণমতো ভাত/পোলাও খান, সঙ্গে সালাদ ও সবজি রাখুন। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের খাবার (যেমন—আটা রুটি, ডাল, শাকসবজি, ডালিম, পেয়ারা) বেছে নিন।
খাবারের সময় যেন খুব দেরি না হয়। নিয়মিত ওষুধ ও ইনসুলিন সময়মতো নিতে হবে। প্রচুর পানি পান করুন। উৎসবের ভিড়েও অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা চালিয়ে যান।
অতিরিক্ত খাওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতা (অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা, ঘন ঘন প্রস্রাব) হলে দ্রুত ব্লাড সুগার মাপুন। খুব বেশি ওঠানামা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68d8fa3f9f772" ) ); হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ)
এই রোগীদেরও বাড়তি সাবধান থাকা প্রয়োজন। ভাজাপোড়া, ঝাল-মসলাদার ও নোনতা খাবার, অনিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত যে জীবন যাপনে আপনি অভ্যস্ত তা থেকে খুব বেশি যেন এদিক ওদিক না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।
নোনতা খাবার (আচার, চিপস, ভাজা বাদাম, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, প্রক্রিয়াজাত মাংস) এড়িয়ে চলুন। আপনার জন্যেও ঝাল-মসলাদার, ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। প্রচুর সবজি, ফল (যেমন পেয়ারা, কমলা, আপেল, ডালিম) ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। চর্বিযুক্ত মাংস, অতিরিক্ত গরু/খাসির মাংস সীমিত করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে অতিরিক্ত কফি/চা এড়িয়ে চলুন।
ওষুধ অবশ্যই সময়মতো খাবেন। ঘুম ও বিশ্রাম ঠিক রাখতে হবে, রাত জাগা কমান। ভারী কাজ বা অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
ভিড় বা অতিরিক্ত হৈচৈতে মানসিক চাপ এড়ানোর চেষ্টা করুন। মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা বুকে ব্যথা হলে দ্রুত বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।