যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার পর ভারতের রিফাইনারিগুলো ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৫০ শতাংশ হ্রাস করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে এই দাবি করেন।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কাটছাঁট এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সম্ভবত ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসের আমদানিতে এর প্রভাব দেখা যাবে।
তারা বলেন, নভেম্বরের জন্য যে তেল আমদানির আদেশে ডিসেম্বরের কিছু চালানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, খুব শিগগিরই রুশ তেল কেনা বন্ধ হবে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ক্রয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে চাপ দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রেমলিনকে চাপে রাখার পরিকল্পনার অংশ ছিল এটি। তবে দিল্লি এতদিন তার অবস্থানে অনড় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এই ইস্যুটি বাণিজ্যযুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভারত তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে পারবে না, তবে প্রক্রিয়াটি খুব শিগগিরই শেষ হবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরমধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।
তিনি আরও বলেন, অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজারে ভারতীয় ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের সবসময়ের অগ্রাধিকার। ভারতের আমদানি নীতি সেই লক্ষ্যে সামনে রেখেই নির্ধারিত হয়।
রাশিয়ার সবচেয়ে বড় রফতানি পণ্য হলো তেল ও গ্যাস, যার প্রধান ক্রেতা চীন, ভারত ও তুরস্ক। ট্রাম্প বলেন, এখন চীনকেও একই পথে আনতে হবে।
মার্কিন প্রশাসন জাপানকেও রুশ তেল-গ্যাস আমদানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, বুধবার তিনি জাপানের অর্থমন্ত্রী কাটসুনোবু কাতোর সঙ্গে বৈঠকে এ ‘প্রত্যাশা’ ব্যক্ত করেছেন।
রাশিয়ার তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে হোয়াইট হাউজ। এটি নতুন মার্কিন শুল্কের মধ্যে সর্বোচ্চগুলোর একটি। এর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে হওয়া লেনদেনের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর রয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি।
মোদি অবশ্য বারবার বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অবস্থান নিরপেক্ষ। মার্কিন দ্বিচারিতার নিন্দা জানিয়ে দিল্লি অভিযোগ করেছে, ইউরোপ ও আমেরিকাও এখনও রুশ জ্বালানির কিনছে।
ভারত বিশেষ মূল্যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি করে অর্থনীতি সচল রাখছে মস্কো। ফলে তেল ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
অবশ্য, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর বিষয়ে ভারতীয় সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেয়নি বলেও জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার তেল আমদানিকারক রিফাইনারিগুলো রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া দেয়নি।