খেলার সৌজন্যতার যে রীতি এশিয়া কাপে সেটাই এড়িয়ে গেছে ভারতীয় দল। সামরিক সংঘাতের কথা মাথায় নিয়ে তারা পাকিস্তান দলের সঙ্গে করমর্দন করেনি। রবিবারের এই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। আবার প্রশ্নও উঠেছে—ভারত কি ক্রিকেটের চেতনাকে অক্ষুণ্ন রাখছে?
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি ঘটনাটিকে প্রকাশ্য ‘অপমান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আজকের খেলায় খেলোয়াড়সুলভ আচরণের ঘাটতি হতাশাজনক। রাজনীতি টেনে আনা খেলার চেতনার বিরুদ্ধে যায়। আশা করি, ভবিষ্যতে জয় উদযাপন হবে সবার অংশগ্রহণে, মর্যাদার সঙ্গে।’
ম্যাচের শুরুতেও উত্তেজনা ছিল। টসের সময় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান থামে ৯ উইকেটে ১২৭ রানে। জবাবে ১২৮ রানের লক্ষ্য ভারত সহজেই পেরিয়ে যায় ১৬ ওভারেরও কম সময়ে। সূর্যকুমার ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন। তিলক বর্মা (৩১) ও অভিষেক (১৩ বলে ৩১) দ্রুত রান তুলে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
অথচ ম্যাচে ভারতের আধিপত্য মোটেও আলোচনার জন্ম দেয়নি। সেটি ছাপিয়ে কেন্দ্রে চলে আসে শেষ মুহূর্তের ঘটনাই। ম্যাচ শেষে প্রচলিত নিয়ম ভেঙে করমর্দন না করে সূর্যকুমার ও শিবম দুবে কেবল নিজেদের মাঝে ফিস্ট বাম্প করে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান। ভারতীয় খেলোয়াড়দের দেখা যায় শুধু সতীর্থদের সঙ্গে করমর্দন করতে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে নয়।
অবশ্য হারের পরও পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের করমর্দনের অপেক্ষা করছিলেন। সেটি না হওয়ায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে পাকিস্তানের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক মহল। সূর্যকুমার ম্যাচ-পরবর্তী বক্তব্যে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনার পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়। অনেকে বলেন, এতে খেলা আরও বেশি রাজনীতির ছায়ায় ঢেকে গেছে। সাবেক পাকিস্তানি তারকা পেসার শোয়েব আখতার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘মাঠে লড়াই হবে তীব্র, তবে মাঠের বাইরে চাই পেশাদারিত্ব। করমর্দন করতে হবে, আলিঙ্গন করতে হবে। কিন্তু ম্যাচে নামলে লড়তে হবে চ্যাম্পিয়নের মতো।’
অন্যদিকে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ হৃদয় ভাঙার এক ইমোজি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু লিখেছেন, ‘স্পোর্টসম্যানশিপ’।