ভারতের বিপক্ষে জয়কে ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের তালিকায় রাখছেন হামজা চৌধুরী

ভারতের বিপক্ষে জয়কে ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের তালিকায় রাখছেন হামজা চৌধুরী

শেষের বাঁশি বাজতেই মাঠে সবাই উচ্ছ্বাসে মাতলেন। ডাগআউট থেকেও সবাই ছুটে গিয়ে উৎসবে অংশ নিলেন। মোরসালিন-হামজা একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে সে কী আনন্দ। গ্যালারিতে রঙিন ঢেউ তো রয়েছেই। দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারত বধ! তাই যেন আনন্দ উচ্ছ্বাসটা একটু বেশি।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে জাতীয় স্টেডিয়ামে কৃত্রিম আলোতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শেখ মোরসালিনের গোলে বাংলাদেশ হারিয়েছে ভারতকে।

ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে মোরসালিন এলেন না, এলেন হামজা চৌধুরী।

গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে করতালিতে সম্মেলন কক্ষে বরণ করে নেন ।

ম্যাচ জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে হামজা বলেন, “আমি ম্যাচের পরই বলেছি, আমি তো আসলে ক্যাম্পে একেবারে শেষে যোগ দিয়েছি। কোচ, কোচিং স্টাফ আর খেলোয়াড়রা প্রায় ২৩ দিন ধরে এখানে আছেন। পরিবার থেকে দূরে, হোটেলে থেকে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছে সবাই। আলহামদুলিল্লাহ, আজ তার ফল মিলেছে।”

এরপর হামজা বলেন, “আমি আর শমিত একটু দেরিতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছি। এসে শুধু কিছুটা কিছুটা সাহসী মানসিকতা যোগ করার চেষ্টা করেছি। আজ আমরা সেই মানসিকতাই দেখিয়েছি। শেষ চার ম্যাচে আমরা দারুণ খেলেছি, ট্যাকটিক্যালি খুব ভালো ছিলাম, কিন্তু শেষ ধাপে বারবার হোচট খাচ্ছিলাম। আজ উল্টোটা হলো-হয়তো বল পায়ে ততটা ভালো ছিলাম না, কিন্তু দেখিয়েছি আমরা কতটা স্থিতিশীল হতে পারি। এবার সময় এসেছে দুই দিকই একত্র করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার, ইনশাআল্লাহ।”

২০০৩ সালের পর এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে জয় এসেছে। ২২ বছর আগের অনুভূতি ফিরিয়ে দিতে পারার আনন্দও অনুভব করছেন হামজা। তবে বাছাই পার না হওয়ার আক্ষেপও আছে তার।

হামজা বলেন, “আমরা আজ ১৮ কোটি মানুষকে খুশি করেছি। পৃথিবীর আর কোথাও এটা সম্ভব নয়। তাই এটি অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের মধ্যে থাকবে।”

বাছাই পর্ব না পেরোনোর আফসোস প্রকাশ করে হামজা বলেন, “কষ্ট লাগে অবশ্যই। কিন্তু এটিও এক ধরনের ফাইনাল ছিল। ২২ বছর মানুষ অপেক্ষা করে আছে বড় ম্যাচ জেতার জন্য। আজ সেটাই হয়েছে। আমরা সবাই জানতাম-পারফরম্যান্স তো হচ্ছেই, এবার দরকার ফল। আজ হয়তো পারফরম্যান্সটা পুরোদমে হয়নি, কিন্তু ফল এসেছে। এখন মার্চে আবার নতুন করে তৈরি হবো এবং দুইটিকে একসঙ্গে মিলিয়ে আরও শক্ত দল হয়ে ফিরবো, ইনশাআল্লাহ।”

আগামী মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাছাইয়ে শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। হামজা এখন তাকাচ্ছেন সামনের দিকে। তার ভাষ্য, “অবশ্যই, এটি স্বপ্নপূরণ। তবে আপনার একাধিক স্বপ্ন থাকতে পারে। এটি তার একটি। ইনশাআল্লাহ, খুব তাড়াতাড়ি আমরা বড় কোনও টুর্নামেন্টেও কোয়ালিফাই করব। আমরা এখন প্রমাণ করেছি; আমরা সক্ষম। শুধু সময় আর ধৈর্য দরকার।”

Comments

0 total

Be the first to comment.

গোল উৎসবে জিতেছে বার্সা BanglaTribune | ফুটবল

গোল উৎসবে জিতেছে বার্সা

বার্সেলোনা গত সপ্তাহে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। সেই হতাশা থেকে বের হতে ভ্যালেন্সি...

Sep 15, 2025

More from this User

View all posts by admin