ভারতের ওড়িশা রাজ্যে সংঘর্ষের পর ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে সংঘর্ষের পর ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি

এবার ভারতের উড়িশা রাজ্যে উত্তেজনা চলছে। শুক্রবার ওড়িশার কাটক শহরে দুর্গাপূজার বিসর্জন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে শহরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এর জেরে রবিবার (৫ অক্টোবর) ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে সেখানে ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। 

জানা গেছে, শহরের দরগাহ বাজার এলাকায় শোভাযাত্রার সময় জোরে সাউন্ড বাজানো নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে রাজনৈতিক মহলগুলোর ‘বন্‌ধের ডাক ও শান্তির আহ্বান’ -সব মিলিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ওডিশার কাটক হাজার বছরের পুরোনো শহর, যা দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে দরগাহ বাজার এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা কাটাজোড়ি নদীর তীরে যাওয়ার পথে থামিয়ে দেয় একদল স্থানীয় বাসিন্দা, যারা গভীর রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানোয় আপত্তি তুলেছিল।

দ্রুতই বিতর্ক দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ছাদ থেকে পাথর ও বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। আর শোভাযাত্রার অংশগ্রহণকারীরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। এতে কাটকের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) খিলাড়ি ঋষিকেশ দ্যানদেওসহ কয়েকজন আহত হন।

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ চালায়। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি, ড্রোন ও মোবাইল ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য অভিযুক্তদের চিহ্নিত করছে।

পুলিশ কমিশনার এস দেব দত্ত সিং বলেন, ‘যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা পাথর ছোড়ার ঘটনায় জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। আরও গ্রেফতার হবে।’

রবিবার সন্ধ্যায় শহর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছিল। তখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক মোটরসাইকেল র‌্যালির আয়োজন করে।

প্রশাসন জানিয়েছে, পথে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে এবং গৌরীশংকর পার্ক এলাকায় কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ওডিশা সরকার কাটকের বিভিন্ন এলাকায় রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ভুল তথ্যের প্রচার রোধ করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট ঠেকানো। এই সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও বন্ধ থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহন চরণ মজিহ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে কাটকের বাসিন্দাদের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin