যুক্তরাজ্য সরকার বিজ্ঞান, ব্যবসা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পেশাজীবীদের জন্য ভিসা ফি বাতিল করার কথা বিবেচনা করছে। গ্লোবাল ট্যালেন্ট টাস্ক ফোর্স-এর নেতৃত্বে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। এই প্রস্তাবনাটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
উদ্যোগটি এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে যারা মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন বা উল্লেখযোগ্য পুরস্কার জিতেছেন। যদিও এই পরিকল্পনাটি একটি ছোট গোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা হলেও, এটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্যান্য প্রধান দেশের কঠোর নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বর্তমান খরচ প্রতি আবেদনকারীর জন্য ৭৬৬ পাউন্ড। স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও একই ফি প্রযোজ্য। এর পাশাপাশি আবেদনকারীরা সাধারণত প্রতি ব্যক্তির জন্য বছরে ১ হাজার ৩৫ পাউন্ড স্বাস্থ্য সারচার্জের মুখোমুখি হন। এই ভিসা ব্যবস্থা ২০২০ সালে চালু হয়, যা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, মানবিক বিদ্যা, চিকিৎসায়, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং শিল্প ও সংস্কৃতিতে স্বীকৃত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তৈরি।
এই সম্ভাব্য নীতির পরিবর্তনটি বাংলাদেশের উচ্চ দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যারা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিদেশে পাড়ি জমানোর কথা ভাবছেন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সীমিত চাকরির সুযোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের বিদেশে সুযোগ খোঁজার প্রবণতা বাড়ছে। ভিসা ফি শূন্য এবং একটি সহজ প্রক্রিয়া যুক্তরাজ্যের এসব পেশাজীবীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলতে পারে, বিশেষ করে যারা ডিজিটাল প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গবেষণার মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন-নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন, যার মধ্যে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ন্যূনতম বেতনসীমা বৃদ্ধি এবং উচ্চ-যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিভাদের জন্য একটি স্পষ্ট পথ তৈরি করতে পারে।
এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে পূর্ব লন্ডনের চ্যান্সেরি সলিসিটর্সের কর্নধার ব্যারিস্টার মো. ইকবাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যেসব ব্যক্তি বিদ্যমান ভিসা খরচ এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলেন, তারা এখন যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য একটি আরও সহজ পথ খুঁজে পাবেন। এর ফলে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশী উভয়কেই উপকৃত করবে। যুক্তরাজ্য সরকারের এই প্রতিভা আকর্ষণের প্রচেষ্টা এমন দলগুলোর নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেমন রিফর্ম ইউকে, যারা অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার বাতিল করতে এবং কঠোর ভিসা শর্ত আরোপ করতে চায়।