জাতিসংঘ বাংলাদেশ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সংগঠনের (ওপিডি) যৌথ উদ্যোগে এবং সাইটসেভার্সের ‘ইকুয়াল বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে একটি নির্দিষ্ট সুপারিশপত্র দিয়েছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। এতে তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে নির্বাচন কমিশন, জাতিসংঘ, সাইটসেভার্স ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিবন্ধীদের চাহিদা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবেশগম্য ও সুবিধাজনক করার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটি সিইসির কাছে মোট ১৪টি মূল সুপারিশ উপস্থাপন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডাক ভোট (পোস্টাল ভোটিং) সম্পর্কে সচেতন করা, ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করা, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রতিবন্ধী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যারা কেন্দ্রে যেতে অক্ষম, তাদের জন্য ডাক ভোট ব্যবস্থা চালু করা, ভোটার তালিকায় সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং প্রতিবন্ধী নারী ভোটারদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া।
এছাড়াও অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে ছিল নির্বাচনি উপকরণগুলোকে সহজপ্রাপ্য করা, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নির্বাচনি কর্মকর্তাদের প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
সংলাপে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের মূল ধারায় সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হোক। তারা যে সুপারিশগুলো দিয়েছেন, আমরা তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। যদিও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সবগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হতে পারে, আমরা জরুরি পদক্ষেপ নেব যাতে ভোটকেন্দ্রগুলো যতটা সম্ভব প্রতিবন্ধীবান্ধব হয়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও নেওয়া হবে এবং আমরা তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই করবো।’
সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩০ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন। তবে ধারণা করা হয়, শেষ জাতীয় নির্বাচনে তাদের মাত্র ১০ শতাংশ ভোট দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
প্রবেশগম্যতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচন কমিশন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও সাইটসেভার্সের ‘ইকুয়াল বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের যৌথ উদ্যোগে গত ৩১ আগস্ট একটি জাতীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওপিডি, জাতিসংঘ সংস্থা, এনজিও, আইএনজিও, সিএসও, প্রতিবন্ধী অধিকার বিশেষজ্ঞ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র কর্মকর্তাসহ মোট ১৪০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
পরামর্শ সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়— অপ্রবেশযোগ্য ভোটকেন্দ্র, তথ্যের সহজপ্রাপ্যতার অভাব এবং নির্বাচনি কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি। আজ যে সুপারিশগুলো নির্বাচন কমিশনে পেশ করা হয়েছে, তা সেই সভার আলোচনার ভিত্তিতেই তৈরি, যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো, ভোটার শিক্ষাদান, সহায়ক প্রযুক্তি এবং নীতিমালা বাস্তবায়ন।
বাংলাদেশ ২০০৭ সালে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক কনভেনশন অনুমোদন করে এবং ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে। এই দুই আইনি কাঠামোই মর্যাদা, স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার সঙ্গে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে।