দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম (বীরপ্রতীক) বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তাই এটি মোকাবিলার জন্য জনগণের সর্বোত্তম অংশগ্রহ প্রয়োজন, যা তাদের চাহিদা পূরণ করবে। ক্ষতি হ্রাস, জীবন রক্ষা করতে এবং সম্প্রদায়ের জীবিকা রক্ষার জন্য এটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘দুর্যোগে আগাম সাড়াদান বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’ শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বা পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম সাড়াদান কার্যক্রমের তৃতীয় ন্যাশনাল ডায়ালগ প্লাটফর্ম। ‘বহুমুখী দুর্যোগ প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমন্বিত এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত আগাম সাড়াদান কার্যক্রম’ এবারের প্রতিপাদ্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, নিঃসন্দেহে, আমাদের দেশে পূর্বাভাস ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সবার জন্য আগাম সতর্কতা বাস্তবায়নকারী অন্যতম একটি দেশ— যা সবার জন্য আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এটি আমাদেরকে আরও দায়বদ্ধ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যন্ত লক্ষ্য-ভিত্তিক, সময়োপযোগী, উপযুক্ত পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কতাবার্তা পৌঁছানোর জন্য নিশ্চিত করার জন্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মাদ আকমাল শরীফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি জেস উড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রেজোয়ানুর রহমন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলাম, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস এবং ইউরোপীয় কমিশনের অফিস প্রধান, ডেভিড জাপা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম সাড়াদান টাস্কফোর্সের চেয়ারপার্সন কেএম আব্দুল ওয়াদুদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবেদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম সাড়াদান কার্যক্রম টাস্কফোর্সের সভাপতি কে এম আবদুল ওয়াদুদ বক্তব্য দেন।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, রেড ক্রস, রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্ট, জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় এনজিও, কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি প্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা এবং সাংবাদিকসহ প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সরকার এবং অংশীদারদের সমন্বয়ে আগামী দিনের জন্য প্রতিশ্রুতি এবং মাইলফলক নির্ধারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে।
উল্লেখ্য, উন্নত পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার ভিত্তিতে সম্ভাব্য দুর্যোগের আগেই পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোই পূর্বাভাসভিত্তিক সাড়াদান কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ২০১৮ সালে পূর্বাভাসভিত্তিক সাড়দান প্রক্রিয়া বাস্তবায়নকারী অংশীদারদের সমন্বয়ে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়, যা দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পূর্বাভাসভিত্তিক সাড়াদান কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে।