নতুন প্রজন্মের হাইপারসনিক অস্ত্র ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল) লঞ্চারে স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাসটেলিয়ন শুক্রবার জানিয়েছে, বিদ্যমান সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের তৈরি ব্ল্যাকবিয়ার্ড হাইপারসনিক স্ট্রাইক অস্ত্রকে একীভূত করতে তারা মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের হাইপারসনিক প্রতিযোগিতায় নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই এমন অস্ত্র তৈরি প্রতিযোগিতায় রয়েছে, যা শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি বেগে উড়ে এবং প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
ক্যাসটেলিয়ন জানিয়েছে, তারা সেনাবাহিনীর জনপ্রিয় মোবাইল লঞ্চার সিস্টেম হিমার্সে এই হাইপারসনিক অস্ত্র সংযোজন করবে। ইউক্রেন যুদ্ধে হিমার্স ব্যবহারের ফলে বিশ্বব্যাপী অস্ত্রটি আলোচনায় আসে। এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ফিল্ড আর্টিলারি অস্ত্র হিসেবে স্বীকৃত।
প্রতিরক্ষা খাতে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি কোম্পানি, স্ট্রাটোলঞ্চ, রেথিয়ন এবং লকহিড মার্টিন এখন একই ধরনের হাইপারসনিক প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তিতে রূপ নিতে পারে।
চুক্তির আর্থিক শর্ত প্রকাশ করেনি ক্যাসটেলিয়ন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৬ সালের বাজেট প্রস্তাবে ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রকল্পের জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কোম্পানির প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্র ব্ল্যাকবিয়ার্ড তৈরি হচ্ছে দ্রুত উৎপাদন ও স্বল্প ব্যয়ে মোতায়েনের উপযোগী করে। ক্যাসটেলিয়নের লক্ষ্য, প্রতিবছর হাজার হাজার ইউনিট উৎপাদন করা এবং প্রতিটির খরচ কয়েক লাখ ডলারের মধ্যে রাখা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করবে এবং পেন্টাগনকে কম খরচে বেশি কার্যকর আঘাতক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে।
চীন ও রাশিয়াও সমান্তরালে নিজেদের হাইপারসনিক কর্মসূচি জোরদার করছে। এসব দেশ ইতোমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা একাধিক দিক পরিবর্তন করে শব্দের গতির কয়েক গুণ বেগে উড়তে সক্ষম। ফলে, বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে নতুন এক হাইপারসনিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া।