ভ্যাট রিফান্ডে বড় পরিবর্তন আনলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করদাতাদের সুবিধা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে ইন্টিগ্রেটেড ভ্যাট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থায় অর্থ বিভাগের iBAS++ সিস্টেম ও BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network) সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে রিফান্ডের অর্থ এখন থেকে করদাতার নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা হবে, ম্যানুয়াল চেকের ঝামেলা ছাড়াই।
পুরোনো সব রিফান্ড আবেদন বাতিল
রবিবার (৯ নভেম্বর) এনবিআরের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, আইভিএএসে নতুন মডিউল চালুর আগে অনলাইনে করা সব অনিষ্পন্ন রিফান্ড আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
এসব আবেদনের দাবিকৃত অর্থ করদাতার ক্লোজিং ব্যালেন্সে (মূসক ৯.১ ফরমের নোট ৬৫ ও ৬৬ অনুযায়ী) যোগ করা হয়েছে। ফলে পুরোনো আবেদন অনুযায়ী রিফান্ডের অর্থ এখন করদাতার রিটার্নের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে
এনবিআর জানিয়েছে, এখন থেকে শুধুমাত্র আইভিএএস সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে মূসক-১.১ ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে।
আগে ম্যানুয়ালি (কাগজে) বা চেকের মাধ্যমে যেসব আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আর গ্রহণযোগ্য হবে না।
যদি অনলাইনে আবেদন করা থাকলেও রিফান্ড ম্যানুয়ালি চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থ করদাতার রিটার্নে “বৃদ্ধিকারী সমন্বয়” হিসেবে যুক্ত করতে হবে।
কমিশনারদের জন্য নির্দেশনা
পরিপত্রে কমিশনার ও কর্মকর্তাদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে— প্রতিটি কমিশনারেটে রিফান্ড কমিটি গঠন করতে হবে, যাতে আবেদন যাচাই-বাছাই দ্রুত সম্পন্ন হয়।কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, বিভাগীয় ও সার্কেল কর্মকর্তাদের জন্য আইভিএএসে পৃথক ইউজার আইডি তৈরি করতে হবে।অনুমোদিত রিফান্ডের অর্থ বিইএফটিএন -এর মাধ্যমে করদাতার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করবেন নির্ধারিত কর্মকর্তা। এজন্য একজন Initiator/Checker (রাজস্ব কর্মকর্তা নন) এবং একজন DDO (সহকারী বা উপ-কমিশনারের নিচে নয়) নিয়োগ দিতে হবে।প্রাথমিকভাবে কেবল ছয় মাসের মধ্যে আগাম কর পরিশোধ করা আবেদনগুলো প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। পরে পুরোনো আবেদনগুলো ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে।কমিশনাররা নিজ নিজ অঞ্চলের করদাতাদের মধ্যে এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও প্রচার কার্যক্রম চালাবেন।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এ অটোমেটেড রিফান্ড সিস্টেমের ফলে রিফান্ড প্রক্রিয়া হবে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ।
আগে যেখানে করদাতাদের রিফান্ড পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো, এখন তা কয়েকটি ধাপেই অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
তাদের মতে, চেকভিত্তিক রিফান্ডে যে বিলম্ব ও অনিয়মের সুযোগ ছিল, তা এ ব্যবস্থায় পুরোপুরি দূর হবে। ফলে রাজস্ব প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও আস্থা দুটোই বাড়বে।
যাচাইয়ের মানদণ্ড
রিফান্ড আবেদন যাচাইয়ে এখন একটি ২৪ দফা চেকলিস্ট অনুসরণ করতে হবে। এতে দেখা হবে—রিফান্ডের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার বেশি কিনা,করদাতার সব রিটার্ন হালনাগাদ কিনা,বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে কিনা,রপ্তানি বা শূন্য হারে সরবরাহ ৫০ শতাংশের বেশি কিনা,সব ইনপুট-বিক্রয় তথ্য যথাযথভাবে মূসক ৬.১ ও ৬.২ ফরমে অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা এবং আমদানি ও রপ্তানির তথ্য যাচাইযোগ্য কিনা।
এনবিআরের প্রত্যাশা
এনবিআর আশা করছে, নতুন এই উদ্যোগের ফলে রিফান্ড প্রক্রিয়ায় সময় ও প্রশাসনিক খরচ দুই-ই কমবে, পাশাপাশি করদাতাদের সন্তুষ্টিও বাড়বে।
তারা বলছেন, ভ্যাট রিফান্ডের ডিজিটাল রূপান্তর শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়—এটি কর ব্যবস্থায় বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার নতুন অধ্যায়।