‘নির্বাচন বিলম্বকারীদের তৎপরতাকেই’ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটা চ্যালেঞ্জ না, যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায় বিভিন্ন কায়দা-কানুনের মধ্য দিয়ে সেটাই হচ্ছে চ্যালেঞ্জ। অথবা বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে আলোচনায় এবং রাস্তায় একই ইস্যুতে আন্দোলন করে যারা একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, জাতির মধ্যে সেগুলোই হচ্ছে চ্যালেঞ্জ। যারা “পিআর পিআর” করে জনগণকে বা বাংলাদেশকে একটা অস্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চায় সেগুলো হচ্ছে চ্যালেঞ্জ।’
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক যুব ঐক্যের উদ্যোগে ‘আগামী নির্বাচন গুনগত মান সম্পন্ন জন্য গ্রহনযোগ্য করার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বলেছি গণভোট আয়োজনের জন্য যে আইনি বিধানগুলো করা দরকার, সে কনস্টিটিউশনকে স্পর্শ করবে না। কারণ সংবিধান পরিবর্তন হলে, সংশোধন হলে যে সমস্ত আর্টিকেলগুলো পরিবর্তন হলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা আছে সেগুলো নির্ধারিত আছে আর্টিকেল ১৪২-এ। কিন্তু সেই সংশোধনিটা যখন হবে, তখন তার পরবর্তী বিষয় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের জন্য সেই জায়গাতে আমরা এখন আসি নাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, সংবিধানে অন্যান্য জাতীয় ইস্যুতে গণভোট করা যাবে না এমন কোনও বিধান নাই। সরকারকে অধ্যাদেশ জারি করে অথবা আরপিওতে সংশোধন এনে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন সেই গণভোটটা করতে পারবে একই দিনে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে… এখানে ফলাফল একই। এর একটা সুবিধা আছে যে, একই আয়োজন একই অর্থ ব্যয় এবং একই লজিস্টিক একবার করছে, তাতে সুবিধা পাওয়া যাবে। অসুবিধার মধ্যে হচ্ছে আরেকটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত বিশাল আয়োজন করে শুধুমাত্র গণভোটের জন্য দেশকে প্রস্তুত হতে হবে।”
‘দুই ব্যালটে নির্বাচন প্রসঙ্গে’
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনকে যাতে অসুবিধার মধ্যে না ফেলা হয়, জনগণকে যাতে বিভ্রান্তির মধ্যে না ফেলা হয়, সেজন্য নাকি দুইটা ব্যালট দিলে একই দিনে অসুবিধা হবে… এইটা কী রকম প্রশ্ন আমি বুঝলাম না। এখন তো আমরা তিনটা ব্যালটে অভ্যস্ত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যানের জন্য, মহিলা মেম্বারের জন্য একটা, পুরুষ মেম্বারের জন্য একটা। যদিও সেই নির্বাচনগুলো ফ্লড হয়েছে… বাট দিচ্ছি তো। উপজেলা নির্বাচনের উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য একটা, নারী ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য একটা, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য একটা….আমরা দিচ্ছি, সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এরকম দুই তিনটা ব্যালট থাকে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণ প্রস্তুত…. গণভোটের জন্য যে ব্যালটটা হবে সেই ব্যালটে আমাদের সাধারণ জনগণের বোঝার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রচারণা চালাতে পারে….. এই যে লাল চিহ্নের মধ্যে টিক দিলে “না”… গ্রিন চিহ্নের মধ্যে ঠিক দিলে “হ্যাঁ”… এরকমও হতে পারে খুব সিম্পল করা যায়। গণভোটের প্রশ্ন তো জনগণের সামনে উন্মুক্তই থাকবে যে, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে তার পক্ষে আছে কি-নাই… “হ্যাঁ” অথবা “না”। আমরা সিম্পলের দিকে যাব এটাই হচ্ছে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। যারা এটাকে জটিল করতে চাচ্ছে তাদের আল্লাহ হেদায়েত নসিব করুন। জাতীয় জীবনে যেন আমরা একটা সুন্দর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অবাধ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার পেতে পারি, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য স্থিতিশীলতা আনতে পারি সেজন্য আমরা সবাই দোয়া করতে পারি।’
‘গুণগত মানসম্পন্ন নির্বাচনের জন্য জনগণই প্রধান নিয়ামক’
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়গুলোর জন্য সাবজেক্ট কী অবজেক্ট কী? জনগণ, ভোটার, নির্বাচন কমিশন পলিটিকাল পার্টিগুলো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী…বর্তমান পুলিশের যে অবস্থা, সবাই সন্দেহ পোষণ করে তাদের দিয়ে এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি-না? এই বিষয়ে সবার একটু প্রশ্ন আছে কারণ, পুলিশ বাহিনীর টোটাল মোরালিটি সেটা এখনও সেই আগের জায়গায় ফেরত আসেনি, কিন্তু তাদের সহায়তার জন্য এক লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য কাজ করবেন, সেটি ইতোমধ্যে সেনাপ্রধান এবং সরকার প্রকাশ করেছে… তাদের সে বিষয়ে ট্রেনিংও দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর বাইরেও যেগুলো সহযোগী বাহিনী আছে, আনসার-বিডিপিসহ অন্যান্য তাদেরও প্রশিক্ষণ চলছে।’
‘ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর প্রসঙ্গে’
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা যদি এই ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যটা শক্তিশালী করি সমুন্নত রাখি এবং এই গণতান্ত্রিক শক্তিটাকে আমরা সম্মান করি। আমাদের মধ্যে বিতর্ক হবে। কিন্তু আমরা যদি এই গণতান্ত্রিক ঐক্যটা ফেসিবলের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যটাকে সমুন্নত রাখি এবং শক্তিতে পরিণত করি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফেসিতে কোন উৎপাদ এবং উৎপত্তিই হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি এটাকেই মূলত আমাদের চ্যালেঞ্জের প্রধান জায়গা মনে করি। সেটা সম্মিলিতভাবে সারা জাতি মোকাবেলা করবে। আশা করি আমরা সফল হবো। আর সকল রাজনৈতিক দলের কাছে একটা অনুরোধ যে, আমরা যদি একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চাই, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর যে রাজনৈতিক দল হিসেবে তার বিচারিক ব্যবস্থা সেটা যেন আমরা তরান্বিত করার জন্য সবাই উদ্যোগী হই।’
যুব ঐক্যের সমন্বয়কারী ফারুক হোসেন খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব প্রমুখ।