যুবলীগের সাবেক নেতা সম্রাটের জামিন বাতিল, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

যুবলীগের সাবেক নেতা সম্রাটের জামিন বাতিল, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে করা মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের জামিন বাতিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৩ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।  

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এর আগে আসামিদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিল করে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

তিনি আরও বলেন, সম্রাটের পক্ষে তার আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২০৫ ধারায় হাজিরা দিয়ে আসছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার এই হাজিরা বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে সম্রাটের উপস্থিতিতে শুনানি জন্য আজকের তারিখ ধার্য করেন আদালত। তবে আসামিরা উপস্থিত না থাকায় তাদের জামিন বাতিল করা হয়। 

গত ২৩ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন।

২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিআইডির উপ-পরিদর্শক রাশেদুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কাকরাইলের ‘মেসার্স হিস মুভিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে বসে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ চালাতেন  সম্রাট। এভাবে তিনি ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে ‘বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ’ উপার্জন করেন। এসব অর্থের উৎস গোপন করার জন্য সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে তিনি সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচার করতেন। পাচার করা টাকার পরিমাণ আনুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা। সম্রাট ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ অগাস্ট পর্যন্ত ৩৫ বার সিঙ্গাপুরে, তিনবার মালয়েশিয়ায়, দুইবার দুবাইয়ে, একবার হংকংয়ে গেছেন। আর এনামুল হক আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সময়ে ২৩ বার ‍সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে নিয়ে কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin