গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। দক্ষিণ রাফাহ সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামাস হামলা চালালে এক ইসরায়েলি সেনা আহত হয় বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েল। এরপর পরই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এর জেরে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) আকাশপথে হামলা চালায় ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে জানায়, তারা নিখোঁজ এক বন্দির মরদেহ হস্তান্তর বিলম্ব করবে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে দেয়, ইসরায়েলের এই আগ্রাসন ‘বন্দিদের মরদেহ অনুসন্ধান, খনন ও উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে, যার ফলে গাজায় অবশিষ্ট ১৩ বন্দির মরদেহ উদ্ধারে বিলম্ব ঘটবে।’
মঙ্গলবারের এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা।
যদিও হামাস রাফাহর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, হামলা ও উভয় পক্ষের লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এর মানে এই নয় যে এখানে সেখানে ছোটোখাটো সংঘর্ষ হবে না। আমরা জানি হামাস বা গাজার অন্য কোনো গোষ্ঠী একজন ইসরায়েলি সৈন্যকে আক্রমণ করেছে। আমরা আশা করি ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া জানাবে, তবে আমি বিশ্বাস করি প্রেসিডেন্টের শান্তিচুক্তি টিকে থাকবে।”
গাজার চিকিৎসা সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানায়, মঙ্গলবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন ছিলেন উত্তর গাজা সিটির সাবরা এলাকার। সেখানে এক আবাসিক ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। পাঁচজন দক্ষিণের খান ইউনুসে নিহত হন।
সূত্রগুলো জানায়, অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ গাজা সিটি থেকে জানিয়েছেন, গাজার আকাশে তীব্র বিমান তৎপরতা চলছে, ড্রোন ঘুরছে উপরে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র আল-শিফা হাসপাতালের পেছনে পড়ে।
তিনি বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলাকে ব্যাপক বলে বর্ণনা করেছেন। আমরা প্রায় ২০ মিনিট দূরে অবস্থান করছি, এখান থেকেও শব্দ শোনা গেছে। হামলায় হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।”
সাবরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ফিলিস্তিনিদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চলে। উদ্ধারকর্মীরা হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করেন।
চিকিৎসকেরা জানান, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
হামলার পরপরই নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে ‘শক্তিশালী হামলা পরিচালনার’ নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে হামলার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার হামাস দায়ী এবং এজন্য হামাসকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, গাজার সাম্প্রতিক হামলার আগে ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে অবহিত করেছিল।
গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এখনও গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তার প্রবাহ কঠোরভাবে সীমিত করে রাখা হয়েছে।