যুক্তরাজ্যের নর্থাম্পটন সেন্ট্রাল মসজিদের এক বাংলাদেশি ইমাম নাবালক যুগলের ইসলামি বিয়ে পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। ৫২ বছর বয়সী ইমাম আশরাফ জামান ওসমানী নর্থাম্পটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেন।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সেন্ট্রাল মসজিদে অনুষ্ঠিত একটি বিয়ে পড়ানো ঘিরে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই বিয়েতে নাবালক বর ও কনের বয়স ছিল ১৬ বছর। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে সব প্রকার বিয়ের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিতেও কোনও ব্যতিক্রম রাখা হয়নি।
নর্থাম্পটনের অ্যাবিংটন অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা ওসমানীর বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনে সমাজবিরোধী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওসমানী নর্থাম্পটনের মুসলিম সমাজে প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং কয়েক দশক ধরে ইমাম ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্পোরেট রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে সেন্ট্রাল মসজিদের একজন সক্রিয় পরিচালক এবং এর আগে ২০০০ সালের নভেম্বর থেকে সেক্রেটারি ছিলেন।
আইনি ত্রুটি স্বীকার করে নেওয়ার পরেও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগতভাবে ওসমানীর প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
ওসমানীকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২০ নভেম্বর সাজা ঘোষণার জন্য তাকে নর্থাম্পটন ক্রাউন কোর্টে হাজির হতে হবে। এই মামলাটি যুক্তরাজ্যের সংশোধিত শিশু বিবাহ আইন কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়ে দেশটির ধর্মীয় নেতা ও সম্প্রদায়গুলোর জন্য একটি কড়া সতর্ক বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।