যুক্তরাষ্ট্র-দ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

যুক্তরাষ্ট্র-দ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা আলোচনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কুয়াং চোল। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর আগমনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। শনিবার (৭ জানুয়ারি) এ হুমকি দেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সাইবারভিত্তিক অর্থপাচার কার্যক্রমে জড়িত। এর পরদিনই উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের সাগর অভিমুখে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার বৈঠক নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সমালোচনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।

সম্প্রতি কোরীয় উপদ্বীপের সীমান্ত সফর করেন মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা।

সিউলে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা বৈঠকের সমালোচনা করে নো কুয়াং চোল বলেন, তারা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের পারমাণবিক ও প্রচলিত সামরিক বাহিনীকে একীভূত করার ষড়যন্ত্র করছেন।

নো বলেন, এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ এবং আমাদের (ডিপিআরকে’র) বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানে থাকার তাদের ইচ্ছাকৃত মনোভাবের উন্মুক্ত প্রকাশ। এখানে ডিপিআরকে বলতে তিনি উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক নাম 'ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া'কে বোঝান।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মঙ্গলবার বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোটের মূল লক্ষ্য উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করা থাকবে, যদিও ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের আঞ্চলিক হুমকির মোকাবিলায় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দিতে পারে।

নো আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিকচালিত বিমানবাহী রণতরি জর্জ ওয়াশিংটন এই সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর বুসানে পৌঁছেছে, যা সিউলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বিমান মহড়ার পর উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ উদ্ধৃত নো কুয়াং চোল আরও বলেন, ‘আমরা শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শান্তি রক্ষার নীতিতে শত্রুর হুমকির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ দেখাব।’

দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী জানিয়েছে, রণতরীটির আগমন কেবল সরঞ্জাম পুনরায় সরবরাহ এবং ক্রু সদস্যদের বিশ্রামকালীন ছুটি দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বলেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী। যদিও কোনও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ট্রাম্প জানান, তিনি কিমের সঙ্গে দেখা করতে পুনরায় এই অঞ্চলে ফিরে আসতেও ইচ্ছুক।

গত সপ্তাহেই উত্তর কোরিয়া পশ্চিম উপকূলে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়— যখন ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা দক্ষিণ কোরিয়ায় আঞ্চলিক বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।

সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়ে, মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ‘মার্কিন কর্মী, ভূখণ্ড বা আমাদের মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনও হুমকি সৃষ্টি করে না।’

তারা আরও বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ডের অস্থিতিশীল প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin