যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় (দক্ষ কর্মী ভিসা) বাড়তি ফি আরোপে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন প্রশাসন তাদের আশঙ্কার দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে আশা প্রকাশ করে ভারত জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব তারা সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামে প্রস্তাবিত সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সরকার তা লক্ষ্য করেছে। বিষয়টির পূর্ণ প্রভাব সংশ্লিষ্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী—যেমন বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও কম্পিউটার প্রোগ্রামার—নিয়োগ করতে পারে। প্রথমে ভিসার মেয়াদ থাকে তিন বছর, যা পরে বাড়িয়ে ছয় বছর করা যায়। প্রতি বছর লটারির মাধ্যমে ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা প্রদান করা হয়, যার তিন-চতুর্থাংশ ভারতীয়রা পান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রাণলয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার স্বার্থ জড়িত। তাই দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে এগোবে বলে আশা করা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এক আকস্মিক ঘোষণায়, অন্য দেশের দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য বাৎসরিক এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করেন। অথচ এতদিন এই খরচ দুই থেকে পাঁচ হাজার ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল।
ট্রাম্পের দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে সবাই লাভবান হবে। কারণ, এর কারণে মার্কিনিদের বদলে কম মজুরির বিদেশি কর্মী আনা বন্ধ হবে। আর যাদেরকে এই উচ্চ খরচ করে নিয়োগ দেওয়া হবে, তারা আসলেই অসাধারণ দক্ষ হবেন।
হোয়াইট হাউজের স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফ বলেছেন, এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অপব্যবহৃত ভিসা ব্যবস্থা। তিনি বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে একজন আবেদনকারীকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে কোনও প্রতিষ্ঠানের বছরে এক লাখ ডলার ফি দিতে হবে। এতে নিশ্চিত হবে যে নিয়োগপ্রাপ্ত বিদেশিরা বাস্তবিকই উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন এবং মার্কিনিদের বিকল্প বিকল্প নন।
বর্তমানে এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ ভারতীয়। প্রযুক্তি খাতের প্রায় তিন লাখ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ভারতীয় কর্মী এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন।
ভারতের প্রযুক্তিশিল্প সংগঠন ন্যাসকম শনিবার বলেছে, দক্ষ কর্মী ভিসার ফি বছরে এক লাখ ডলার করার সিদ্ধান্ত ভারতের প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো ভারতীয় আইটি জায়ান্টরা ব্যাপকভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল। নতুন ফি তাদের খরচকে কোটি কোটি ডলার বাড়িয়ে দেবে। প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে নিয়োগ কমে যেতে পারে কিংবা চাকরি বাজার ভারতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি