যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ’ পারমাণবিক প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত আলোচনার জন্য কোনও প্রস্তাব পায়নি বলে শনিবার (১১ অক্টোবর) জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘যদি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য যুক্তিসংগত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য কোনও প্রস্তাব পাই, তাহলে অবশ্যই তা বিবেচনা করব।’
আরাঘচি আরও বলেন, তেহরান তার ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার’ থেকে সরে আসবে না। তবে ‘এর পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি’ সম্পর্কে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিতে পারে।
আরাঘচি আরও যোগ করেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করছে। অবশ্যই এটি নির্ভর করছে অপর পক্ষও আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা তার ওপর। যেমন : আংশিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
যুক্তরাষ্ট্র, তার ইউরোপীয় মিত্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে ব্যবহার করছে গোপনে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টা লুকানোর জন্য। তবে ইরান বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধে ওয়াশিংটনও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলায় অংশ নিয়েছিল। এই যুদ্ধের আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন পাঁচ দফা পারমাণবিক আলোচনা করেছিল। তবে সেখানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি, যা পশ্চিমা শক্তিগুলো সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনতে চায় যাতে অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি দূর করা যায়।