রিমন রহমান:
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাশুল্ক কার্যকর হয়েছে। বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে দেশটিতে পণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের সমান এবং ভারতের চেয়ে কম শুল্কের কারণে মিলছে সুবিধা।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু বলেছেন, আমরা বড় অর্ডার নিতে পারবো, আর ছোট অর্ডার তো করতেই পারবো। আর আমাদের এখানে কারখানাগুলো অনেক বড় বড়। ভারতেও এত বড় বড় কারখানা নেই। আমাদের এখানে পরিবেশবান্ধব কারখানা আছে ২৫৯টি। সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটা চমৎকার অবস্থানে আছি।
সম্ভাবনার সঙ্গে আছে শঙ্কাও। উচ্চশুল্কারোপের কারণে বাড়ছে পণ্যের দাম। আর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বেশি দামের পণ্য কেনা কমিয়ে দিলে সংকুচিত হবে রফতানিও।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ যে ধরনের পণ্য রফতানি করে গার্মেন্টসের, এগুলো খুবই প্রাইস সেন্সিটিভ। দাম এদিক-ওদিক হলেই এগুলোর চাহিদা পড়ে যাবে। সুতরাং চাহিদা যদি পড়ে তখন আমদানিকারক বা ব্র্যান্ড বা রিটেইলার যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, রফতানিকারকও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, তাদের ওভারঅল ব্যবসা-ই পড়ে যাবে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশুল্কারোপের কারণে ইইউ বাজারমুখী হচ্ছে অনেক দেশ। ফলে প্রতিযোগিতায় কতোটা সুবিধা করতে পারবে বাংলাদেশ?
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী যে দেশগুলো পণ্য রফতানি করে থাকে, বিশেষত চীন এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভারত; এই বাজারগুলোতে তাদের পণ্য রফতানি কমে গেলে তখন তারা বিকল্প বাজারগুলোতে পণ্য রফতানি বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। বিশেষ করে ইউরোপের মতো বড় বাজারে তারা এই চেষ্টাটি করবে। তখন কিন্তু ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে পারে এবং সেটা কিন্তু ইউরোপের বাজারেও বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু তৈরি পোশাকই নয়, রফতানি বাণিজ্যে টিকতে হলে দরকার পণ্যের বৈচিত্রকরণ।
ড. মাসরুর রিয়াজ বললেন, চীনকে যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র এই ট্যারিফ না বিভিন্ন বাণিজ্যেও কড়াকড়ির মধ্যে নিয়ে আসতেছে। তখন চীন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরে রাখার সাথে সাথে চেষ্টা করবে অন্য যে বড় মার্কেট আছে, সেই জায়গায় তার যেখানে কড়াকড়ি ওইভাবে নাই, সেখানে সে আগ্রাসী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পর তো বড় মার্কেট ইউরোপ; চীন এতদিন সেখানে যেভাবে ব্যবসা করতো, তারা আরও আগ্রাসী হয়ে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করবে।
উল্লেখ্য, ইউএস ট্যারিফ কার্যকর হলেও এখনও দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষর হয়নি ফ্রেমওয়ার্ক। দ্রুত সময়ের মধ্যে চলছে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি।
/এমএন