যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেপি মরগ্যান ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেমি ডাইমন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে বাজারে গুরুতর কিছু ঘটতে পারে।
ডাইমন বলেন, আমি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। বাজার এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে ঝুঁকি অনেক বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার কথা।
জেমি ডাইমন মনে করেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিপুল সরকারি ব্যয় এবং বিশ্বের পুনরায় সামরিকায়নের মতো ঝুঁকি শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, এই সবকিছু এমন এক জটিল পরিবেশ তৈরি করছে যেটির জবাব আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে শেয়ারবাজারে দ্রুত উত্থান দেখা গেছে। তবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে, এআই খাতে শেয়ারমূল্য অনেকটাই ‘অতিরঞ্জিত’ এবং এতে ‘আকস্মিক পতনের’ ঝুঁকি বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে ডাইমন বলেন, এআই বাস্তব এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি ফল দেবে। যেমন গাড়ি বা টেলিভিশন শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল, কিন্তু তাতে জড়িত অধিকাংশ মানুষ লাভ করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, এআই-তে যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে, সেটির একটি বড় অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডাইমন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের মঞ্চে কিছুটা কম নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ ইউরোপকে ন্যাটো ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগে বেশি সক্রিয় করেছে বলে তিনি মনে করেন।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে ডাইমন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অপরিহার্য।
ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ফেডের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না।
অর্থনীতি ছাড়াও ডাইমন সম্প্রতি বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত মাত্র সাত দিনের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে ফেলবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, মানুষ ক্রিপ্টো মুদ্রা মজুতের কথা বলে। কিন্তু আমি বলি, আমাদের গুলি, বন্দুক আর বোমা মজুত করতে হবে। পৃথিবী এখন অনেক বেশি বিপজ্জনক।
জেমি ডাইমন সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বর্নমাউথে জেপি মরগ্যানের নতুন ক্যাম্পাসে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। স্থানীয় উন্নয়নে আরও ৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এই বিনিয়োগের প্রশংসা করে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেন, এটি ডরসেটের অর্থনীতি ও স্থানীয় মানুষের জন্য চমৎকার খবর।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক সম্পর্কেও আশাবাদী ডাইমন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক শিগগিরই কমাতে পারে। তার কথায়, আমি তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছি, তারা এটা করতে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে ডাইমন হেসে বলেন, এটা এখন আমার পরিকল্পনায় নেই। তবে যদি প্রেসিডেন্টের পদটি কেউ অফার করে, আমি ভালো কাজ করতে পারব বলেই মনে করি।