বিশ্বকাপ ফুটবলের বাকি প্রায় ৯ মাস। এরই মধ্যে আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ২০২৬ সালের এই আসরকে ঘিরে। বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে যেমন দর্শকদের মাঝে থাকে বাড়তি আগ্রহ, তেমনি প্রতি আসরের আগে বলের ডিজাইন আর রঙ নিয়েও চলে ব্যাপক আলোচনা।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের বল ট্রাইওন্ডা এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কী আছে এই বলে, কীভাবেই বা করা হলো ডিজাইন?
ট্রাইওন্ডা শব্দটির অর্থ তিন তরঙ্গ। ট্রাই মানে তিন, আর ওন্ডা অর্থ স্প্যানিশ ভাষায় তরঙ্গ বা ঢেউ।
২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে উদ্দেশ্য করেই তিন সংখ্যাটি দেয়া। বলটির রঙ ও প্রতিকী নকশাতেও প্রতিফলিত হয়েছে আয়োজক দেশগুলোর পরিচয়। আছে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কানাডার ম্যাপল পাতা আর মেক্সিকোর ঈগল। বলের কাঠামোতে নিখুতভাবে খোদাই করা আছে এসব প্রতীকী গ্রাফিক্স আকারে।
বলটিতে ব্যাবহার হয়েছে, লাল-নীল-সবুজ ও সোনালি রঙের ছোঁয়া। ট্রাইওন্ডাকে আলাদা করেছে এর প্রযুক্তিগত দিক। বলটিতে রয়েছে ৫০০ হার্জ সেন্সর চিপ, যা প্রতি স্পর্শ, বলের গতি, এমনকি অতি সূক্ষ মুভমেন্ট পর্যন্ত রেকর্ড করতে পারে। যে তথ্য সরাসরি যাবে ভিএআর ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের কাছে, যাতে মাঠের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়।
এছাড়া, খোদাই করা প্রতীকগুলো বল ভেজা অবস্থায়ও ভালো গ্রিপ করা নিশ্চিত করবে।
এবারও বলটি বানিয়েছে অ্যাডিডাস। এ নিয়ে টানা ১৫ বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের বল সরবরাহ করছে বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক এই প্রতিষ্ঠান।
অ্যাডিডাস ফুটবলের ম্যানেজার স্যাম হ্যান্ডি বললেন, এক ইভেন্টে তিনটা বড় দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডা একসাথে; আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটা ভালো ডিজাইনের বল করা। খেয়াল করলে দেখা যাবে, আমরা কিন্তু বলের রঙে তিন দেশকেই ব্যালেন্স করেছি। পুরো কাঠামোটা দেখলেই বুঝা যাবে কত নিখুঁতভাবে করা হয়েছে।
ফ্রান্সের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার জিনেদিন জিদানও বলছেন, নিঁখুত হয়েছে এবারের আসরের বলের ডিজাইন।
তার মতে, মানুষ ফুটবলের প্রতি পাগল, তারা উদযাপন দেখতে চায়, তারা ম্যাচ দেখতে চায়। বল একদম ঠিকঠাক নিঁখুত হয়েছে। মানুষ অপেক্ষায় আছে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য।
/এমএন