বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার নাম বিসিএস। লাখো পরীক্ষার্থীর ভিড়ে প্রিলিমিনারি পর্যায় অতিক্রম করাই এক বড় সাফল্য। তবে প্রিলিমিনারির পরেই অপেক্ষা করে আসল চ্যালেঞ্জ—লিখিত পরীক্ষা। সময় থাকে খুব কম—মাত্র এক থেকে দেড় মাস। এই অল্প সময়ে কীভাবে পরিকল্পনা করলে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে, সেটিই আজকের আলোচনা।
প্রিলিমিনারি পেরোনো মানেই অর্ধেক যুদ্ধ জয়?
৪৫তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি দিয়েছিলেন ২ লাখ ৬৮ হাজার প্রার্থী, উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মাত্র ১২ হাজার ৭৮৯ জন। ৪৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণের সংখ্যা আরও কম—১০ হাজার ৬৪৪। এই সংখ্যাগুলোই বলে দিচ্ছে, প্রিলিমিনারি অতিক্রম করা সহজ নয়। তবে এখানেই থেমে গেলে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় অনেকেই টিকতে পারেন না। কারণ, এই পর্যায়ের জন্য আলাদা প্রস্তুতি দরকার।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলে
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অফিসার নিয়োগে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর প্রার্থীরা লিখিত মূল্যায়নে অংশ নেন। সেখানে শুধু তথ্য জানা নয়, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও লিখনক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হয়। ইউরোপে, বিশেষ করে ইইউ নিয়োগ পরীক্ষায়। প্রিলিমিনারি পেরোনো প্রার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে নিবিড় প্রস্তুতি শুরু করুন—মক টেস্ট, সময় ব্যবস্থাপনা ও লিখনচর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে।
এই অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, প্রিলিমিনারির পরের সময়টুকু কীভাবে কাজে লাগাবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে লিখিত পরীক্ষার সাফল্য।
সময়কে ভাগ করে নিন
প্রিলির ফল প্রকাশের পরই সময়কে ভাগ করে নিতে হবে।
প্রথম সপ্তাহ: সিলেবাসের রূপরেখা তৈরি করুন। আগের বছরের প্রশ্নপত্রগুলো বিশ্লেষণ করুন।
পরের তিন সপ্তাহ: প্রতিদিন নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর পড়াশোনা করুন। উত্তর লেখার অনুশীলন শুরু করুন।
শেষ দুই সপ্তাহ: পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন। সময় বেঁধে উত্তর লিখুন, পরে খুঁটিয়ে মূল্যায়ন করুন।
লিখন দক্ষতা ঝালিয়ে নিন
লিখিত পরীক্ষায় শুধু মুখস্থবিদ্যা কাজে দেয় না। উত্তরের গঠন, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনার ভঙ্গি নম্বর নির্ধারণ করে। প্রতিদিন অন্তত দুটি প্রশ্নের উত্তর লিখুন। সময়সীমার মধ্যে লিখতে শিখুন।
দুর্বল বিষয় কাটিয়ে উঠুন
প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিতে যেসব বিষয় উপেক্ষিত থাকে—প্রবন্ধ, বাংলা ও ইংরেজি রচনা, সংক্ষিপ্ত উত্তর—এসবকেই অগ্রাধিকার দিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জায়গাতেই অনেক প্রার্থী পিছিয়ে যান।
গ্রুপ স্টাডি ও মক পরীক্ষা
বন্ধুদের নিয়ে ছোট গ্রুপ তৈরি করুন। একে অপরের লেখা পড়ুন ও সমালোচনা করুন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি মক পরীক্ষা দিন। আন্তর্জাতিকভাবে দেখা গেছে, এই পদ্ধতি আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে।
মনঃসংযোগ ও মানসিক প্রস্তুতি
প্রস্তুতির সময় মানসিক চাপ বাড়ে। তাই বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস জরুরি। পরীক্ষার হলে স্থির মনোভাবই বড় শক্তি। প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হওয়া নিঃসন্দেহে সাফল্যের প্রথম ধাপ। কিন্তু এরপরের এক মাসই আসল পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে—অল্প সময়েও সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন ও লিখন দক্ষতার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন সম্ভব। তাই লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বার্তা স্পষ্ট, এখনই লক্ষ্য স্থির করে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন।