হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় লাগা আগুন ৫ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। আগুনের কারণে আমদানি করা ওষুধ, টেলিকমিউনিকেশনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। একইসঙ্গে কার্গো ব্যবস্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি কার্গো সহসাই চালু হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে কার্গো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কার্গোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, স্কাই ক্যাপিটালের গুদাম থেকে আগুনের উৎপত্তি। সেখানে কেমিক্যাল থাকার কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘কার্গোর ৩ নম্বর গুদাম, কার্গো ভিলেজ পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা ও ভয়াবহতা অনেক বেশি। স্মরণকালের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। গার্মেন্টস পণ্য, ওষুধ, কেমিক্যাল, টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রপাতিসহ মূল্যবান আমদানি করা মালামাল পুড়ে গেছে। পুরো কার্গো অচল। এটি ঠিক করতে সময় লাগবে।’
ঢাকা কাস্টমস হাউজ সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খাইরুল আলম ভূইয়া মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্মরণকালের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়লাম। আমদানি করা সব মূল্যবান মালামাল পুড়ে গেছে। কার্গো ব্যবস্থাপনা এখন অচল প্রায়। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, আমাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এটি কীভাবে পূরণ হবে—তা বলা সম্ভব নয়।’
প্রসঙ্গত, শনিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে সংস্থাগুলো।