পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ মিসরীয় বিমান ভাড়া আনার মাধ্যমে সরকারের ৭৪১ কোটি টাকা ক্ষতির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন সাবেক বিচারপতি এএফএম মেজবাউদ্দিনসহ তিন জন। এ মামলায় এখনও চার জন পলাতক।
ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে বুধবার (১২ নভেম্বর) আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ওই তিন জন। তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করেন।
শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন দুদক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম।
জামিন পাওয়া অপর আসামিরা হলেন– পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাবেক পরিচালক ফজলে কবির।
পলাতক আসামিরা হলেন– সাবেক পরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী, সাবেক পরিচালক এয়ার ভাইস মার্শাল আবু এসরার, সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ।
এ মামলায় গত ৪ নভেম্বর ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করে আদালত। পলাতক থাকায় সাবেক বিচারপতি এএফএম মেজবাউদ্দিনসহ সাত জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
অপর আসামিরা হলেন– বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ, সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল আলম সিদ্দিক (মো. এসএ সিদ্দিক), সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার দেবেশ চৌধুরী, সাবেক এয়ারক্রাফট মেকানিক বর্তমানে প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (স্ট্রাকচার) শরীফ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, ইঞ্জিনিয়ার অফিসার (অব.) মো. জাহিদ হোসেন, প্রকৌশলী কর্মকর্তা হীরালাল চক্রবর্তী, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার অশোক কুমার সর্দার, প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।
পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ মিসরীয় বিমান ভাড়া আনার মাধ্যমে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা ক্ষতিতে ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এজাহারভুক্ত ২৩ জনের মধ্যে ১৪ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক। এর মধ্যে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন জন স্টিল মারা যান। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। সেখানে সাবেক বিচারপতি এএফএম মেজবাউদ্দিন আরও সাত জনের নাম আসে। পরে তাদের অভিযুক্ত করে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সেখানে দুদক সরকারের ৭৪১ কোটি টাকা ক্ষতির তথ্য পায়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটি লিজ নিয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে মিশর এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে ফের ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। পরে ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও নষ্ট হয়ে যায়। সেই ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তবে কোনও সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। সে কারণে ইজিপ্ট এয়ার এবং মেরামতকারী কোম্পানি উভয়কেই অর্থ দিতে হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। ফলে উড়োজাহাজ দুটির জন্য রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় ৭৪১ কোটি টাকা।