বাংলাদেশে কেউ কেউ মোজো (মোবাইল জার্নালিজম) সাংবাদিকতা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন উল্লেখ করে সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন বলেছেন, আন্তজার্তিকভাবে মোজো রিপোর্টিয়ে ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি ডয়চে ডেলেতে সাড়ে পাঁচ বছরে অন্তত ২০টা মোজো রিপোর্টিংয়ের কোর্স করেছি। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আমিই কোর্সের পৃষ্ঠপোষক থাকতাম। অন্যরা আমার থেকে বেশি বেশি কোর্স করেছে। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, আপনারা (বাংলাদেশে) মোজো রিপোর্টিং নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন আর ইন্টারন্যাশনালি মোজো সাংবাদিকতার ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। মোজো মানে আপনি ওয়ান ম্যান আর্মি, অনেকটা জেমস বন্ডের মতো।”
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর স্টেট ইউনির্ভাসিটিতে “সাংবাদিকতা: আমাদের জন্য কী করে?” শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, “আপনি একটা সংবাদ সংগ্রহ করবেন, এডিট করবেন, তারপর আপ করবেন। আপনি সবকিছু রেডি করে ঘরে এসে বসে নিজের মতো করে সাজিয়ে আপলোড করবেন। এটা তুচ্ছ ব্যাপার না।”
তিনি বলেন, “এমন বহুজন আছে, যিনি সবটা পারেন। আমি এটা পারি, আমি ওটা পারি না, আমি খুব কিউট; সাংবাদিকতায় এই কিউটনেসের দিন শেষ। আপনাকে সবই পারতে হবে। আপনাকে ছবি তুলতে জানতে হবে, আপনাকে এডিট করতে জানতে হবে, সবগুলো আপনাকে করতে হবে।”
তিনি বলেন, “স্যাটেলাইটে টেলিভিশনের বড় ক্যামেরাপার্সনরা মোজো সাংবাদিকদের যে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, এটার অনেকগুলো কারণ আছে। একটা বড় কারণ, আপনি যখন কোনও প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং মাস শেষে বেতন পান তখন আপনার একটু ভাব-সাব আলাদা থাকে। আপনি (মোজো) যেহেতু ইন্ডিপেন্ডেন্ট, হয়তো ওর থেকে আপনি টাকা রোজগার বেশি করেন অথচ আপনার পাশে একটি প্রতিষ্ঠান নেই, আপনি একটু সেন্স অব ইনসিকিউরিটিতে বেশি ভোগ করেন।”
“সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইন্টারভিউ করতে চান”, এটা কী সাংবাদিকতার নীতির মধ্যে পড়ে—এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, “শেখ হাসিনার ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য অনেকের আগ্রহ আছে। ভারতসহ ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াগুলো তার ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। ২৪-এর আন্দোলনে ১ হাজারের বেশি হত্যা নিয়ে আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই।”
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টেট ইউনির্ভাসিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের এ এম শামীম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতার হোসেন খান।