মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধ বিরতি ভঙ্গের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা পরামর্শ শেষে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজায় তাৎক্ষণিকভাবে জোরালো হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তার দাবি, হামাস যে ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, তা আসলে দুই বছর আগে উদ্ধার হওয়া এক জিম্মির দেহাবশেষ।
তবে হামাস, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও চুক্তিতে ভূমিকা রাখা কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহে গাজায় ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েল এখনও কঠোরভাবে মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
হামাসের সামরিক শাখা আল–কাসেম ব্রিগেড বলেছে, ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে তারা এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। ব্রিগেডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের যেকোনও নতুন হামলা উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করবে এবং মৃত জিম্মিদের মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তরে বিলম্ব ঘটাবে।
মঙ্গলবার রাতে রাফাহ সীমান্তে গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এরপর রাফাহ ও খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে কামানের গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এতে একজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন।
নেতানিয়াহুর কট্টর দক্ষিণপন্থি মন্ত্রিসভা পাল্টা কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দাবি করেছেন, হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে বিনিময় চুক্তিতে মুক্ত ফিলিস্তিনিদের পুনরায় গ্রেফতার করা উচিত। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, সঠিক প্রতিক্রিয়া হবে হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলছে, সরকার গাজায় মানবিক সহায়তা সম্পূর্ণ বন্ধ, অঞ্চলটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো কিংবা হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বিমান হামলার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষক মুহাম্মদ শহাদা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শুরু থেকেই নেতানিয়াহু নতুন অজুহাত খুঁজছেন, যাতে গাজায় গণহত্যা আবার শুরু করা যায়। ইসরায়েল এখনও রাফাহ সীমান্ত খুলছে না, ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অজুহাতে বোমাবর্ষণ করছে।