বেলারুশ থেকে আসা ‘স্মাগলিং বেলুন’ গুলি করে নামাবে লিথুয়ানিয়া

বেলারুশ থেকে আসা ‘স্মাগলিং বেলুন’ গুলি করে নামাবে লিথুয়ানিয়া

বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করা ধূমপানযোগ্য তামাকজাত দ্রব্যের পাচারে ব্যবহৃত বেলুনগুলো এখন গুলি করে নামানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। সোমবার রাজধানী ভিলনিয়াসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ইনগা রুগিনিয়েনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

রুগিনিয়েনে বলেন, আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন হলে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত। সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে, এসব বেলুন দেখা গেলেই গুলি করে নামানো হবে।

গত সপ্তাহে একাধিকবার বেলারুশ সীমান্ত থেকে আসা হেলিয়ামভর্তি বেলুন লিথুয়ানিয়ার আকাশে প্রবেশ করায় ভিলনিয়াস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করতে হয়। গত সপ্তাহে তিনবার বিমান চলাচল বন্ধের ফলে ১১২টি ফ্লাইট ও ১৬ হাজার ৫০০ যাত্রীর যাত্রা ব্যাহত হয় বলে বাল্টিক নিউজ সার্ভিস জানিয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ২৫টি বেলুন প্রবেশ করেছিল, যার কারণে ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং প্রায় ৬ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়। জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (এনসিএমসি) জানিয়েছে, শুধু চলতি বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বেলারুশ থেকে ৫৪৪টি বেলুন লিথুয়ানিয়ার আকাশে প্রবেশ করেছে, যা গত বছর ছিল ৯৬৬টি।

বেলুনগুলোর মাধ্যমে সিগারেট ও অন্যান্য ছোট পণ্য চোরাচালান হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সরকার বলছে, বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং নিরাপত্তা হুমকি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বেলুন অনুপ্রবেশের ঘটনায় লিথুয়ানিয়া কয়েক দফায় বেলারুশ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করেছে। এবার থেকে সীমান্ত বন্ধ থাকবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক, কূটনীতিক ও লিথুয়ানীয় নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্তে প্রবেশ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বেলারুশকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, এ ধরনের হাইব্রিড আক্রমণ সহ্য করা হবে না। প্রতিরোধে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেলারুশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রুগিনিয়েনে আরও জানান, লিথুয়ানিয়া ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ হুমকির বিষয়ে আলোচনা করবে এবং প্রয়োজনে ন্যাটো চুক্তির চতুর্থ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করার বিষয়টি বিবেচনা করবে। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও সদস্য দেশ নিরাপত্তা-সংকটজনিত বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ চাইতে পারে।

লিথুয়ানিয়া ছাড়াও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোপেনহেগেন ও মিউনিখসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি বিমানবন্দরে ড্রোন ও অজ্ঞাত বস্তু দেখা যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রুগিনিয়েনে বলেন, আমাদের জনগণ ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বেলুন হোক বা ড্রোন, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমা কোনোভাবেই খেলনার জায়গা নয়।

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin