ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, এক সহকারী প্রক্টর অনুমতি ছাড়াই তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করেছেন। তবে অভিযুক্ত সহকারী প্রক্টর দাবি করেছেন, তিনি শিক্ষার্থীর সম্মতি নিয়েই ফোনটি দেখেছেন।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ একটি তথ্য যাচাই কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আবির হাসান জানান, শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তাকে প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্যকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
পরে সহকারী প্রক্টর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তার ফোনে ‘রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা’ আছে কি না দেখতে চান।
অভিযুক্ত সহকারী প্রক্টর ড. রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা আবিরের আইডি কার্ড দেখতে চাইলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রক্টরদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেন আবির। রাত ১১টার দিকে বহিরাগত নারীদের নিয়ে ঢাবির কেন্দ্রীয় মাঠে প্রবেশ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে মোবাইল ফোন দেখার পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি আসলে জানতে চেয়েছিলাম, ‘তোমার কারও সঙ্গে যোগাযোগ আছে?’ এরপরই ফোনটা দেখি। এটা অনেকটা বাবা-ছেলের মতো ব্যাপার ছিল। আমার ছেলে যেমন কিছু বললে, আমি সেটা মেনে নেই।”
অন্যদিকে আবিরের দাবি, তার কাছে ফোন দেখার ব্যাপারে কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে— একজন বামপন্থি কর্মী, বহিরাগত ও রিকশাচালক মিলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যকে মারধর করেছে।”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আবির বলেন, “ধরা যাক, অভিযোগগুলো সত্যও। তারপরও কারও ব্যক্তিগত ফোন তল্লাশির অধিকার কারও নেই।”