ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। বিবিসি ক্ষমা চাইলেও ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে ১০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করব। আগামী সপ্তাহের যেকোনও সময় তা হতে পারে। আমার মনে হয়, এটা আমাকে করতেই হবে। তারা স্বীকারও করেছে যে তারা প্রতারণা করেছে।’
সোমবার ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিবিসিকে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তারা অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি বক্তৃতার সম্পাদিত ভিডিও প্রকাশ করে তারা প্রেসিডেন্টের মানহানি করেছে। একই সঙ্গে গতকাল শুক্রবারের মধ্যে ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দেন তারা।
প্রতিষ্ঠানটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে না বলেছে।
বিবিসি বলেছে, ‘ভিডিও ক্লিপটির সম্পাদনার ধরন নিয়ে বিবিসি আন্তরিকভাবে দুঃখিত হলেও এ ঘটনায় মানহানির মামলা করার মতো কোনও ভিত্তি আছে বলে আমরা মনে করি না।’
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মনে হয় এটা করা লাগবে। তারা প্রতারণা করেছে। তারা আমার মুখের কথা বদলে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। তবে স্টারমার তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। তিনি সপ্তাহান্তে স্টারমারকে ফোন করবেন বলেও জানান।
সার্বজনিক আদালত নথির ডাটাবেস অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফ্লোরিডার কোনও ফেডারেল বা অঙ্গরাজ্য আদালতে কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি।
গত বছর বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে প্রচারিত তথ্যচিত্রে ট্রাম্পের বক্তব্যটি সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে ট্রাম্প-সমর্থকদের হামলার ঠিক আগে তিনি বক্তব্যটি দিয়েছিলেন। বক্তব্যের আলাদা দুটি অংশ একসঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়েছিল। বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছিল, ট্রাম্প সরাসরি ‘সহিংস পদক্ষেপে’ উসকানি দিচ্ছেন।
বিবিসি এরই মধ্যে বক্তব্যটি সম্পাদনা করা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ক্ষতিপূরণ দিতে নারাজ তারা। এর সপক্ষে পাঁচটি যুক্তিও তুলে ধরেছে প্রভাবশালী গণমাধ্যমটি।
ভিডিও সম্পাদনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এ বিতর্কের জেরে বিবিসির মহাপরিচালক ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ সংবাদ নির্বাহী পদত্যাগ করেছেন।