বিচারকের আদেশ জালিয়াতি ও ভুয়া জামিননামা তৈরির অভিযোগে রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার ঢাকার দেউলিয়া আদালতের সেরেস্তাদার মো. খাদেমুল বাশারকে ৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, বিচারকের আদেশ জালিয়াতির মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন। তবে এদিন আসামি পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি জাল-জালিয়াতি চক্রের সক্রিয় সদস্য। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে বেলবন্ড ও আদেশনামা তৈরি করে আসামিদের জামিনে মুক্ত করেন। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জাল-জালিয়াতি চক্রের মূল হোতাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ও আরও জাল-জালিয়াতির অবৈধ কাগজপত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে পাঁচ দিনের পুলিশ একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত বুধবার বিকালে আসামিকে সূত্রাপুর থানাধীন জনসন রোড থেকে খাদেমুলকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বেলবন্ড তৈরিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আসামি মো. খাদেমুল বাশার বিচারকের নাম-পদবী ব্যবহার করেন। বিচারকের স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জাল ও ভুয়া আদেশনামা তৈরি করেছেন। জাল রিলিজ আদেশ ও জামিননামা তৈরি করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আসামিদের জামিনে মুক্ত করেছেন। এছাড়াও আসামির কাছ থেকে আদালতের গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্র, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরিকৃত বেলবন্ড এবং আদেশনামা তৈরি করে তাদের জামিনে মুক্ত করার বিভিন্ন কাগজ সংগ্রহ করেছেন। এ ঘটনায় রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির অভিযোগে এ বছরের ৭ মে মামলা হয়েছে।