চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক ঋণের প্রবাহে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, এ সময় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের পাওয়া ঋণ প্রতিশ্রুতি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩ হাজার ২২২ শতাংশ।
ইআরডির তথ্য বলছে, প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ৯১০ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে—যে বছর দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হয়েছিল—ঋণ প্রতিশ্রুতি ছিল মাত্র ২৭ দশমিক ৪১ মিলিয়ন ডলার।
শুধু প্রতিশ্রুতিই নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ঋণ অর্থছাড়ও বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেয়েছে ১ দশমিক ১৪৭ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৪৬ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।
ইআরডি আরও জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছে সুদ ও আসল মিলিয়ে ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ ছিল ১ দশমিক ১২৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রকল্পের গতি ফেরায় উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা ফিরেছে, যা বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় উভয় ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।