বিদ্যুৎ মিটারের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিলসহ ৫ দাবি জানিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতি।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি আনাউর রহমান বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ১ কিলোওয়াটে ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা দিয়ে থাকি। অন্যদিকে প্রিপ্রেইড মিটারের ক্ষেত্রে আমাদের ১৬৬ টাকা দিতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চার্জের হিসাব আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগে নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের মূল্য এক হতে হবে এবং স্লাপ পদ্ধতির বিল বাতিল করতে হবে। দেশে কুইকরেন্টাল ও বিদেশিদের কাছ থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ ক্রয় করে সরকার টাকা অপচয় করছে, যার দায় সম্পূর্ণ গ্রাহকের ওপর পড়ছে। এসব চুক্তি বাতিল করে দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সোলার পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।’
বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতি আরও বলেন, ‘গাইবান্ধা জেলায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হলে সে সময় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক তদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে ওই বিল সমন্বয় করার কথা থাকলেও তা আজও করা হয়নি। অতিরিক্ত বিল সমন্বয় না করে প্রায় ১০০টির মতো মামলা দিয়ে গ্রাহক হয়রানি করা হচ্ছে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমি বিদ্যুৎ খাতের চুরি ও দুর্নীতি রোধ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কাছে একটি কমিশন তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া বিদ্যুৎ খাতে যেসব মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে পর্যালোচনা করা দরকার। যদি কমিশন গঠনে বিলম্ব হয়, তাহলে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে একটি গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। এছাড়া গ্রাহকের ওপর যেভাবে প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিএনপির উপদেষ্টা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ ছাড়া কোনও কাজই করেন না। তারা এখন ঘুষখোর ট্যাক্স কালেক্টরের ভূমিকায়। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।’
স্বরাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘বিদ্যুৎ অফিসে যাওয়া মানেই ঘুষ না দিলে কাজ বন্ধ। যেন গ্রাহকরা অপরাধী! এই ঘুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে।’
বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতির পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো- প্রি-প্রেইড মিটার সংযোগ বন্ধ করতে হবে। ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল করতে হবে। স্লাপ পদ্ধতির নিল বাতিল করে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ফ্ল্যাট পদ্ধতিতে বিল নিতে হবে। কুইকরেন্টালসহ বিদেশ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অধিক মনোযোগী হতে হবে। মিটার ভাড়া বাতিল করতে হবে। স্লাপ পদ্ধতির নিল বাতিল করে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ফ্ল্যাট পদ্ধতিতে বিল নিতে হবে। কুইকরেন্টালসহ বিদেশ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অধিক মনোযোগী হতে হবে।