বিদেশের মাটিতে এই প্রথম কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের কাছে সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ৫ উইকেটে পরাজয়ের পর অধিনায়ক লিটন দাস বলেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পেছনে ক্লান্তি ও কন্ডিশন বড় কারণ!
চট্টগ্রামে শুক্রবার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি শেষে সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেছেন, 'সিরিজ শুরুর আগে আমি বলেছিলাম, কঠিন চ্যালেঞ্জ চাই। সেটা আমরা পেয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব ভালো বোলিং করেছে, আর আমাদের ব্যাটিংটা মানসম্মত হয়নি। তবে একটা-দুটি খারাপ সিরিজ নিয়ে বেশি চিন্তার কিছু নেই। এই ছেলেরা অভিজ্ঞ, প্রমাণিত পারফর্মার। মাঝে মাঝে ফল আমাদের পক্ষে যায় না, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছে। এখন একটু বিরতি পেলে সবাই নতুন উদ্যমে ফিরে আসতে পারবে।'
তার পরেই খেলোয়াড়দের টানা খেলার প্রসঙ্গ টানেন লিটন, 'দলটা আসলে টানা খেলছে— ফিটনেস ক্যাম্প, একের পর এক সিরিজ, এশিয়া কাপ, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি— সব মিলিয়ে ক্লান্তি স্বাভাবিক। সামনে আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে অন্তত ১০ দিনের একটা বিরতি থাকবে। এই সময়টা সবাইকে পুনরুজ্জীবিত হতে সাহায্য করবে।'
লিটন তিন ম্যাচেই প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেছেন, 'তিনটি ম্যাচেই আমরা চাপের মধ্যে ছিলাম। পিচ, শিশির আর আবহাওয়া— আমাদের পক্ষে ছিল না। কিছু উইকেটে ১৫০–১৬০ রান করাও সহজ ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শিশির তাদের ব্যাটিংয়ে অনেক সহায়তা করেছে। আমাদের বোলাররা চেষ্টা করেছে, কিন্তু কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।'
মিডল অর্ডার ব্যাটার জাকের আলীর পারফরম্যান্স নিয়ে লিটন বলেছেন, 'বিশ্ব ক্রিকেট এখন অনেক বদলে গেছে। ব্যাটাররা এখন টার্নিং উইকেটে রিভার্স সুইপসহ নানা রকম শট খেলছে। আমাদেরও শটের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে, ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নত করতে হবে— তবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ হতাশাজনকভাবে শেষ হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী লিটন, 'এই ছেলেরা জানে কোথায় উন্নতি করতে হবে। অল্প কিছুদিনের বিশ্রাম আর অনুশীলন— এই দুটোই তাদের আবার শক্তভাবে ফিরিয়ে আনবে। আমরা তাদের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা রাখি।'