ট্রাম্পের আমন্ত্রণে কেন সাড়া দিলেন না কিম?

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে কেন সাড়া দিলেন না কিম?

একসময় ‘ভালোবাসায়’ আবদ্ধ থাকার কথা বলেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। কিন্তু এবার ট্রাম্পের প্রকাশ্য আমন্ত্রণ সত্ত্বেও কিম কোনও সাড়া দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলার মতো প্রয়োজনীয়তা কিমের নেই। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এশিয়া সফরে ট্রাম্প একাধিকবার কিমের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি ১০০ শতাংশ প্রস্তুত, এমনকি উত্তর কোরিয়াকে ‘একধরনের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবেও স্বীকার করেন। যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির পরিপন্থি।

কিন্তু পিয়ংইয়ং কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং একাধিক মিসাইল পরীক্ষা চালায় এবং তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাশিয়া ও বেলারুশে পাঠায়। হার্ভার্ড এশিয়া সেন্টারের ভিজিটিং স্কলার সং-হিওন লি বলেন, বাস্তবতা হলো, কিম জং উনের অংশগ্রহণের আগ্রহ জাগানিয়ার মতো কিছু ছিল না। এটি ওয়াশিংটনের একটি গুরুতর ভুল।

তিনি বলেন, ট্রাম্পের বারবার আহ্বান আসলে কিমের জন্যই একপ্রকার ‘কূটনৈতিক জয়’, যা তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৈধতা দেয়।

ট্রাম্পের টুইটার আহ্বানের পর ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের শেষ সাক্ষাৎ হয় দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের পানমুনজমে । কিন্তু হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আলোচনায় কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

এরপর উত্তর কোরিয়া নিজেকে ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করে। এমনকি ইউক্রেনে যুদ্ধেও রাশিয়াকে সহায়তা পাঠায়।

সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক সু কিম বলেন, রাশিয়ার সমর্থনই এখন উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করেছে। এতে কিম এমন অবস্থানে আছেন, যেখানে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা তার জন্য সহজ।

এদিকে কিমের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছো সন হুই এ সপ্তাহে মস্কো সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চুক্তি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়া এখন অর্থনৈতিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে সহযোগিতা করছে।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যও বেড়েছে প্রায় ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গত মাসে কিমকে বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে শি জিনপিং ও পুতিনের পাশে দেখা গেছে। যা তার আন্তর্জাতিক মর্যাদার এক নতুন প্রতীক।

হার্ভার্ডের লি বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে এই নতুন কৌশলগত সম্পর্কের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে শুধু একটি ফটোসেশনের জন্য কিমের কিছু হারানোর নেই। বরং তিনি এখন কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ভ্লাদিমির টিখোনভ বলেন, ২০১৯ সালের হ্যানয় ব্যর্থতার পর পিয়ংইয়ং এখন অনেক সতর্ক। তারা এখন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায়, যেমন কূটনৈতিক স্বীকৃতি বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin