প্রশ্ন
আমার বয়স ২৭। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ালেখা শেষ করে মাত্র একটা জবে জয়েন করেছি। আমার বিয়ের কথা চলছে। আমার বেশিরভাগ বন্ধুর বিয়ে হয়ে গেছে। সবাই বলে আমি দেখতে খারাপ না, ছাত্রী হিসেবেও খুব ভালো সবসময়। অথচ আমি কখনও সম্পর্কে জড়াতে পারিনি। এখনও যখন আমার বিয়ের কথা হচ্ছে তখন আমি সেটা ইতিবাচকভাবে নিতে পারছি না। আমার বাবা-মায়ের সম্পর্ক খারাপ না। তারা আমাকে নিয়ে অনেক গর্বিত, আমার জন্য তারা সব করেছে। কিন্তু আমি সম্পর্ককে ভয় পাই। কারোর সঙ্গে থাকতে হবে সে বিষয়টিতে ভয় পাই। এটা কি আমার বিবাহিত জীবনে বাজে প্রভাব ফেলবে? আমি কি বিয়েটা করবো না?
উত্তর
আপনাকে অভিনন্দন আপনার নতুন চাকরির জন্য। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যোগদান করা আপনার জীবনের একটা বড় অর্জন। যেহেতু আপনি আগে কখনও কোনও রোমান্টিক সম্পর্কে ছিলেন না, তাই ‘সম্পর্ক’ আপনার কাছে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং অজানা অধ্যায়। মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় অজানা বিষয়কে ভয় পায়।
আপনি বিয়ে করবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত একান্ত আপনার। আপনি জানতে চেয়েছেন, ‘এটা কি আমার বিবাহিত জীবনে বাজে প্রভাব ফেলবে?’ হ্যাঁ, ফেলতে পারে, যদি আপনি এই ভয়টি নিয়ে কাজ না করেন। যদি আপনি এই ভয় এবং উদ্বেগ নিয়েই বিয়েতে রাজি হয়ে যান, তবে কয়েকটি সমস্যা হতে পারে।
যেমন আপনি হয়তো আপনার সঙ্গীর সাথে সহজ হতে পারবেন না, নিজের মনের কথাগুলো বলতে পারবেন না। ভয় থেকে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে, যা একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য ভালো নয়। ছোটখাটো বিষয়েও আপনার মনে হতে পারে যে, সম্পর্কটা ঠিক হচ্ছে না, যা থেকে দাম্পত্য কলহ শুরু হতে পারে।
কিন্তু ভালো খবর হলো, আপনি আপনার ভয়টি সম্পর্কে সচেতন। এটাই সমাধানের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনি যেহেতু বিষয়টি বুঝতে পারছেন, তাই আপনি এটা সমাধানও করতে পারবেন।
আপনি এই মুহূর্তে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন। যেমন-
নিজেকে সময় দিন: আপনার চাকরিটা নতুন। প্রথমে নতুন কর্মপরিবেশে নিজেকে গুছিয়ে নিন। নিজের সাথে সময় কাটান। বোঝার চেষ্টা করুন, আপনার ভয়ের নির্দিষ্ট কারণ কী? আপনি ঠিক কি নিয়ে ভয় পাচ্ছেন? (দায়িত্ব, স্বাধীনতা হারানো, নাকি অন্য কিছু)
সম্ভাব্য বরের সঙ্গে কথা বলুন: যদি সম্ভব হয়, যার সাথে আপনার বিয়ের কথা চলছে, তার সাথে খোলামেলা কথা বলুন। দেখুন, তার সাথে কথা বলে আপনি সহজ হতে পারছেন কিনা।
বাবা-মায়ের সাথে কথা বলুন: আপনি বলেছেন আপনার বাবা-মা আপনাকে নিয়ে গর্বিত এবং আপনাকে বোঝেন। তাদের সাথে আপনার ভয়ের কথাটি শেয়ার করুন। তাদের বলুন যে, আপনি বিয়ের বিপক্ষে নন, কিন্তু আপনার কিছুটা সময় প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতির জন্য।
প্রশ্ন
আমার স্ত্রী সরকারি চাকরি করেন। আমাদের ৬ বছরের বিবাহিত জীবন, তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। তার বদলির চাকরির কারণে এই ৬ বছরে আমরা খুব অল্প সময় একসাথে থাকার সুযোগ পেয়েছি। এখন সন্তান বড় হচ্ছে। তার ঢাকায় আসার সম্ভাবনা কম। আর আমারও ব্যবসার কাজ ফেলে ঢাকা থেকে তার কর্মস্থলে চলে যাওয়ার বাস্তবতা নেই। এ পরিস্থিতিতে আমাদের সম্পর্কে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমার মেয়ে ও আমি পরস্পরকে মিস করছি। এখন কী করলে আমরা একটা সমাধানে আসতে পারি?
উত্তর
এই পরিস্থিতিতে কোনও সহজ বা নিখুঁত সমাধান হয় না। প্রতিটি সমাধানেরই কিছু ভালো এবং খারাপ দিক থাকবে।
আপনি বলেছেন তার ঢাকায় আসার সম্ভাবনা কম। কিন্তু এটা কি পুরোপুরি অসম্ভব? সন্তানের বয়স (৩ বছর) এবং আপনারা যে ৬ বছর ধরে আলাদা থাকছেন, এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে বদলির জন্য নতুন করে আবেদন করা যায়। অনেক সময় সন্তানের স্কুলিং বা বিশেষ যত্নের কারণ দেখিয়েও আবেদন করা হয়। অনেক সময় অন্য কোনও মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় ডেপুটেশনে বদলি হয়ে ঢাকায় বা ঢাকার আশেপাশে আসা যায়। এই পথটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
আপনার মেয়ে যেহেতু বড় হচ্ছে, শিগগির স্কুলে যাওয়ার সময় হবে। তার একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। বার বার স্কুল বা জায়গা পরিবর্তন তার মানসিক বিকাশের জন্য ভালো নয়। আপনারা কি আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে, মেয়ে আপনার সাথে ঢাকায় থাকবে? এখানেই সে স্কুলে ভর্তি হবে। এতে আপনার একাকীত্ব কাটবে, মেয়ের সাথে আপনার সম্পর্ক গভীর হবে এবং তার পড়াশোনার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হবে।
এই ক্ষেত্রে আপনার স্ত্রীকে একা থাকতে হবে এবং তিনি সন্তানকে মিস করবেন। তবে তিনি ছুটির দিনগুলোতে ঢাকায় আসতে পারবেন। মা হিসেবে এটা তার জন্য অনেক বড় ত্যাগ, কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য অনেক বাবা-মা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
আপনি বলেছেন আপনার পক্ষে ব্যবসা ফেলে যাওয়া সম্ভব নয়। আপনি কি আপনার ব্যবসাকে এমনভাবে সাজাতে পারেন যাতে আপনার উপস্থিতি ছাড়াও সেটি চলে? (যেমন একজন বিশ্বস্ত ম্যানেজার নিয়োগ করা)। তার কর্মস্থলে কি আপনার ব্যবসার একটি ছোট শাখা খোলা বা নতুন কোনও ব্যবসা শুরু করার সামান্যতম সম্ভাবনা আছে?
যদি আপাতত আলাদা থাকতেই হয়, তবে সম্পর্কের জটিলতাগুলো কমানোর জন্য আপনাদের চেষ্টা করতে হবে। কাজের চাপে কথা কম হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত দুবার (যেমন সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে) ভিডিও কলে কথা বলা আবশ্যক। মেয়ের সাথে আলাদা করে কথা বলুন, তার সারাদিনের গল্প শুনুন। আপনারা কে কী করছেন, কার দিন কেমন গেল, কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন—তা একে অপরের সাথে শেয়ার করুন। দূরত্ব থেকে যেন কোনও ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের জন্ম না হয়।
উপরে বলা সমাধানগুলো বা আপনাদের মাথায় আসা অন্য কোনও সমাধান একটি কাগজে লিখুন। প্রতিটি সমাধানের পাশে তার সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো লিখুন। আপনার মেয়ের বয়স এখন ৩ বছর। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে তার স্কুলিং শুরু হবে। তাই সন্তানের স্থিতিশীলতা এবং মানসিক বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।