ও মাস্টার আপা তোমার বাইসাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি;আমার বুকপকেটে এবড়োখেবড়ো দোয়াতকালিমধ্যাহ্নের গায়ে লেখা চৈত্রদিনের গানহাতে বায়ান্নাটি তাস; একটি উড়নচণ্ডী যৌবনতুলোট কাগজের ভারে—জলের ধোঁয়া মাথায় নিয়ে উড়ে যাচ্ছে সারস।বৃক্ষ ও পাতার শব্দে পাশাপাশি দুখানা মুখসবুজ হাওয়ার সংকেত। দাঁড়ায়, ভেসে ওঠে ক্রসবারেশোধিত বিজ্ঞাপন। জলযুদ্ধের স্মৃতিতে বপন মৎস্যগন্ধা মন—হারিয়ে গেছে কবে এমন বেহেড মাতাল দুপুরএক আশ্চর্য রঙিন; জীবন এক শাশ্বত কর্পূর।
মোলায়েম আলোয় রাঙাকর্মজীবী মহিলা হোস্টেলছায়াসংগীতের সুরে—বাজে নগরের রাস্তার জ্যামখুদে বার্তায় ঘাম-বৃষ্টির ছাট,আজ বৃহস্পতিবার;উইদাউট বৃষ্টিতে কাটা হচ্ছে ঘাসফাইলবন্দী রোদ ছেড়ে যাচ্ছে বাড়িবর্ষার বেড়াল সন্ধ্যায় আরেকবারজুঁই অথবা জিনিয়ার লাজুক লিরিকেচিরহরিৎ হৃদয় ভিজে পারাপারক্লান্ত চাঁদের আলো ধোয়া রাতভিজে গেছে তার পরনের শার্ট।
শরতের ঠিকুজি নির্বাচিত কাশফুলঅথবা জার্নি বাই শরৎস্টেশন বলতে বুঝি—আশ্বিনের রাতের আকাশে চড়িয়ে দিল শিল্পকলার রংঅতঃপর রেখাঙ্কন থেকে চাঁদটি নেমে পৌঁছে গেলচারুকলার জয়নুল গ্যালারিতেসেখান থেকে হয়তো সবুজবৃষ্টির ছটা গিয়ে লাগলবালিকার বরই ফুলের মতো নাকফুলেকিন্তু শরৎ-সৌরভ; লাহিড়ী মোহনপুর, দিলপাশারসহচলনবিলের উদর ফুঁড়ে বয়ে চলা শরৎনগর স্টেশনেরদুই ধার—সুভাসিত হলুদ, সওজ,জিরা ও কাঁচা লঙ্কার ফুল—এই সব কাঁচা মসলাপাতিঋতু শরতের জীবনচরিত লিখতে নাসারন্ধ্র ভাসিয়ে দেয়।
কোনো এক মঙ্গলবার দুপুরতরুণীর গোল ঠোঁটের দিব্যিতে মেতে উঠব;ভুলে যাব খেলো রাজনীতি—ছিঁড়েফুঁড়ে ফেলব বাজার অর্থনীতি,বালিকার টোল পড়া গালের অফেরতযোগ্য দৃশ্যআফটারম্যাথ ‘তুমি আমার আপন’গোপন ছিল এত দিন। ভেসে বেড়ানো আনন্দ।প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের তাগিদ। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠি—বাঁচলাম;ঠকে শেখা মাত্র। স্বগত কাক দাবার ছক থেকে খুঁজছে সঞ্জীবনী ঘাস।
নদীতীরবর্তী জনপদ; স্বরগ্রাম তার নামনাও দৌড়ানির ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাঙে সে পাড়ের বসতিশাহজাদি বেগুন উৎপাদনে আছে তার জগৎস্বীকৃতিঅবস্থান বুঝে ডিপ্লোমেটিক ডিসকোর্সে দিন দিনপ্রমোশন নিয়ে ঘরে ফিরল পার্পেল কালারের শাড়ি—বিশ্বাস করুন; বুদ্ধিজীবী হিসেবে লোকাল বাসেআমাদেরও গতায়ত ছিল নেহাত লোক দেখানো।অর্থশাস্ত্রে বৃষ্টিফেরত কদমের মূল্য মর্যাদা মেপে মেপেপ্রেম ও পদক্ষেপ ছিল কিছুটাতবে পরের যাত্রায় আমরা মরিয়া হয়ে উঠি কাঁটাযুক্ত সাদা বেগুন, ব্রহ্মপুত্রপাড়ের ট্যাংরা, পুঁটিরঝালে ঝোলে ঢেকুর তোলা গল্প...তবু আমাদের হুঁশ ফিরল না। নয়নীগঞ্জ শাখার শ্রীমতি ব্যাংকারতাকে জানালাম, আমার অবস্থান গাছের নিচে বেঞ্চিপাতাদোকান আর ভ্যান গঘের আকাশি রঙের কাঁচামিঠা রোদসবুজ জোছনায় নেয়ে ওঠা চাঁদ।